অ্যান্টিগার একই মাঠে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের এই ধারাবাহিকতায় প্রথম ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ দিনে দুই দলের মিলিয়ে এক হাজার ৪০৮ রান ও ২৮টি উইকেটের পতন হলেও কোনো দল শেষ পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি। তবু প্রথম ম্যাচের ফলই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজ জয়ের আনন্দ এনে দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দীর্ঘ ২৩ বছর পর কোনো টেস্ট ধারাবাহিকতা জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সবশেষ ২০০৩ সালে নিজেদের মাঠে তারা ১-০ ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল। এরপর দুই দলের মধ্যকার সাতটি সিরিজের তিনটিতে জয় পায় শ্রীলঙ্কা, আর বাকি চারটি অমীমাংসিত থাকে।
শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই নয়, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আবারও টেস্ট ধারাবাহিকতা জয়ের স্বাদ পেল ক্যারিবীয়রা। এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। এরপর টানা ১০টি ধারাবাহিকতার মধ্যে ছয়টিতে পরাজয় দেখতে হয়েছিল স্বাগতিকদের।
শেষ দিনে দুই উইকেটে ৯২ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। দিনের প্রথম ঘণ্টায় ৫৮ বলে ৪৪ রান করা কামিন্দু মেন্ডিস বিদায় নিলে তৃতীয় উইকেটের ৮৬ রানের জুটি ভাঙে। অন্য প্রান্তে দিনেশ চান্দিমাল অর্ধশতক পূরণ করলেও শতকের দেখা পাননি। ১০৭ বলে ৭১ রানের ইনিংসে তিনি চারটি চার ও দুটি ছক্কা মারেন।
পরে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৪ বলে ৩৪ এবং সোনাল দিনুশা ২৬ বলে ২৮ রান করেন। মিলান রত্নায়াকা ২০ রানে অপরাজিত থাকার সময় দলীয় লিড তিনশ ছাড়ালে শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ২৫১ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসের ৫০ রানের লিড মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩০২ রান।
জবাবে দিনের বাকি সময়ে জয়ের জন্য কোনো ঝুঁকি নেয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং শুরু থেকেই উইকেট আগলে খেলেন। বৃষ্টির কারণে কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকলেও ৪০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০৯ রান তোলে স্বাগতিকরা। ক্যাম্পবেল ১১৩ বলে ৫১ এবং কিং ১২৯ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ অমীমাংসিত রাখেন।
এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব্যসাচী জাস্টিন গ্রেভস। পুরো সিরিজে ব্যাট ও বল হাতে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনিই পান সিরিজসেরার পুরস্কার।