২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগসহ ১০০টিরও বেশি অভিযোগ আছে তাঁর নামে। ২০২৩ সালের আগস্টে কারাবন্দী হয়েছিলেন তিনি। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে নির্জন কারাবাসে আছেন। জেলে থাকা অবস্থায় চোখের সমস্যায় ভুগছেন তিনি।
আইনজীবীদের দাবি, চিকিৎসার ঘাটতির কারণে ইমরান তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছেন। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। তবে পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে চিন্তিত বিভিন্ন দেশের সাবেক অধিনায়করা। তাঁর সুচিকিৎসার জন্য পাকিস্তানের সরকারকে চিঠি দিয়েছেন তারা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত। বিশেষ করে কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর চোখের জ্যোতি অনেক কমে গেছে। গত আড়াই বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন। সতীর্থ ক্রিকেটার হিসেবে আমরা তাঁর অবস্থা বুঝতে পারি। ইমরান খানের মতো একজন ব্যক্তিকে একজন প্রাক্তন জাতীয় নেতার উপযুক্ত মর্যাদা এবং মানবিক দিকটা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’
ইমরানের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান। জাতীয় দলের হয়ে ৮৮ টেস্ট এবং ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন সাবেক ডানহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে ৭ হাজারের বেশি রান করার পাশাপাশি ৫৪৪ উইকেট নিয়েছেন। ইমরান এখনো ক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডার এবং অধিনায়কদের একজন, সেটা মনে করিয়ে দিয়ে চিঠি লিখেছেন গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল আথারটন, নাসের হুসেইন, মাইকেল বিয়ারলে, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ, জন রাইট, কিম হিউজেস এবং বেলিন্দা ক্লার্ক।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্রিকেটে ইমরান খানের অবদান বিশ্বজুড়ে বেশ প্রশংসিত। সুনিপুণ দক্ষতা, নেতৃত্ব ও স্পোর্টসম্যানশিপে পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। তাঁর অধিনায়কত্বে পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক জয় সীমান্ত পেরিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতে অনুপ্রাণিত করেছিল। আমাদের অনেকেই তার সঙ্গে মাঠ শেয়ার করেছি। তিনি এখনো ক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডার এবং অধিনায়কদের একজন।'
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ক্রিকেটের বাইরেও ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চ্যালেঞ্জিং সময়ে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর দেশের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। খেলোয়াড়, ভক্ত-সমর্থক, প্রশাসক সবার কাছ থেকেই যথেষ্ট সম্মান পেয়েছেন।’