মিরাজ নিজেও এদিন ছিলেন বিবর্ণ। ৪ ওভার বোলিং করে ৪৩ রান খরচ করেছেন, পাননি কোনো উইকেট। অথচ সিপিএলে এর আগের তিন ম্যাচেই বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেট এবং তৃতীয় ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে মোট ৯ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।
২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় কিংসম্যানকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন মায়াজ সাদাকাত ও কার্ক ম্যাকেঞ্জি। প্রথম তিন ওভারে আসে ৪২ রান। এর মধ্যে দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসেই ১৭ রান খরচ করেন গায়ানার অন্যতম বড় ভরসা হয়ে ওঠা মিরাজ। অন্যদিকে সাদাকাত ১৭ বলে ৩১ করে ফিরলেও ম্যাকেঞ্জি ও কেইসি কার্টি যোগ করেন আরও ৪৮ রান। পরে সাইম আইয়ুবের সঙ্গে কার্টির ৬২ রানের জুটি ম্যাচে রাখে কিংসম্যানকে। কার্টি ৪০ বলে ৫৬ করে রানআউট হলেও শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন পাওয়েল।
মাঝে অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে এসে মাত্র ২ রান খরচ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন মিরাজ। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি পরের দুই ওভারে। নিজের কোটার শেষ দুই ওভারে ২৩ রান খরচ করেন এই অফস্পিনার। ৪ ওভার বল করে ৪৩ রান খরচ করে প্রথম কোয়ালিফায়ারের মত এদিনও উইকেট শূন্য থাকেন তিনি।
এরপর যেন ঝড় তোলেন কিংসম্যান অধিনায়ক। ১৬তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ধীর থাকলেও ১৭তম ওভারে খারি পিয়েরকে পরপর দুই ছক্কায় ছন্দে ফেরেন পাওয়েল। পরের ওভারে ইমরান তাহিরকে ছক্কা মেরে এবং ১৯তম ওভারে শামার জোসেফের বলে চার ও ছক্কায় ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় কিংসমেন। ১৭ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন পাওয়েল।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়লেও হেটমায়ারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় গায়ানা। শাই হোপের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটিতে হেটমায়ার করেন ৫৫ রান। এরপর কুইন্টন স্যাম্পসনের সঙ্গে আরও ৬৫ রান যোগ করেন তিনি। ইনিংসের শেষ বলে আন্দ্রে রাসেলকে চার মেরে ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করেন হেটমায়ার। চলতি আসরে তার দ্বিতীয় এবং সিপিএলে তৃতীয় শতক।
শেষ পর্যন্ত হেটমায়ারের শতকও গায়ানাকে বাঁচাতে পারেনি। আর প্রথমবার সিপিএলে খেলতে নেমেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কিংসম্যান। ২০ সেপ্টেম্বর কেনসিংটন ওভালে শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস।