স্টকহোমভিত্তিক অ্যাঙ্কর স্পোর্টস এবির সহ-মালিক জহির ও ব্যবসায়ী নাগেন্দ্র সিদ্ধৌতম। মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে জাফনা কিংস এখন প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক ক্রীড়া নেটওয়ার্কের অংশ । এর আগে অ্যাঙ্কর স্পোর্টস ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের বেলজিয়ামভিত্তিক অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করস এবং কানাডার সুপার৬০ লিগের ভ্যাঙ্কুভার অ্যাঙ্করসের পুরুষ ও নারী দলের মালিকানাও নিয়েছে।
জাফনার আগের মালিক স্পোর্টস কমিউনের মালিকানা গত ২৩ জুলাই বাতিল করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির সহ-মালিক ভারতের সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটার মনজোত কালরা ১৬ জুলাই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে আছেন। অপর সহ-মালিক ময়াঙ্ক গোয়েলের অবস্থানও অজানা। এরপর চলমান মৌসুমে দলটির কার্যক্রম সচল রাখতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) ও এলপিএলের স্বত্বাধিকারী ইনোভেশন প্রোডাকশন গ্রুপ (আইপিজি) জরুরি ভিত্তিতে দায়িত্ব নেয়।
মাঠের বাইরের এই অস্থিরতার প্রভাব অবশ্য মাঠে পড়েনি। এলপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল জাফনা কিংস এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচটি আসরের মধ্যে চারবার শিরোপা জিতেছে। চলতি মৌসুমেও লিগ পর্বে শীর্ষে থেকে তারা প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে।
অ্যাঙ্কর স্পোর্টসের সহ-মালিক নাগেন্দ্র বলেন, 'এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ, আর অল্প সময়েই এলপিএল নিজেদের একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল লিগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অ্যাঙ্কর জাফনা কিংস আমাদের বৈশ্বিক পরিকল্পনারই অংশ। স্থানীয় শিকড় ধরে রেখেই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে দলটি। আমরা এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগ করতে এবং এলপিএলের আরও বিকাশে ভূমিকা রাখতে মুখিয়ে আছি।'
জহির খান বলেন, 'শ্রীলঙ্কার বোলিং প্রতিভা, নতুনত্ব এবং বৈচিত্র্য আমাকে সবসময় মুগ্ধ করেছে। এই দেশে খেলেছি, বহু স্মৃতি রয়েছে। এবার মালিক হিসেবে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত। অ্যাঙ্কর জাফনা কিংসের সঙ্গে কাজ শুরু করার অপেক্ষায় আছি।'
এলপিএলের টুর্নামেন্ট পরিচালক সামান্থা দোদানওয়েলা মনে করেন, জহিরের মতো একজন কিংবদন্তির সম্পৃক্ততা লিগের জন্য বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, 'জহির খানের মতো একজনের সম্পৃক্ততা এলপিএলের জন্য দারুণ ইতিবাচক বিষয়। তরুণ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা তার অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা থেকে মাঠের ভেতরে-বাইরে অনেক কিছু শিখতে পারবে।'