কদিন আগেই ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলেছেন হাসান। দেশের বাইরে কখনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা হয়নি তার। কলম্বোর হয়ে এবারই প্রথম সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এলপিএলের মাধ্যমে। শ্রীলঙ্কার টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হাসান বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, সুযোগ আসছে আর আমি সবকিছু উপভোগ করছি। এলপিএলও আমার জন্য খুব ভালো একটা অভিজ্ঞতা ছিল। আশা করছি, কাল ভালো একটি ম্যাচ খেলে এখান থেকে বিদায় নিতে পারব।’
কলম্বোর হয়ে গত ম্যাচে অবশ্য একাদশের বাইরে ছিলেন। জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দেশে ফিরতে যাচ্ছেন হাসান। আগষ্টের প্রথম সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ। যেখানে দুই টেস্টের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। অস্ট্রেলিয়াতে যাওয়ার আগে মিরপুরে ছোট পরিসরে ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ।
মূলত সেই ক্যাম্পে যোগ দিতেই এলপিএল থেকে ফিরে আসছেন হাসান। এদিকে একই কারণে শ্রীলঙ্কাতেই যাননি তাসকিন আহমেদ। জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করেই জাফনা কিংসের হয়ে খেলতে যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে শেষ মুহুর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তাসকিন। হাসান জানিয়েছেন দেশের হয়ে খেলাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স করতেও আশাবাদী তিনি।
হাসান বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ দল। দেশের আগে অন্য কিছু নয়। অবশ্যই আমাকে ফিরতে হবে। দেখেছেন, কয়েকজন ফাস্ট বোলার আগেই ইনজুরিতে আছে। সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় একটি টেস্ট সিরিজ। আমরা খুবই ইতিবাচক। আশা করছি, ভালো ক্রিকেট খেলব, দেশের জন্য সেরাটা দেব এবং ভালো ফল নিয়ে আসতে পারব।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের লক্ষ্য নিয়ে হাসান বলেন, ‘আমার মনে হয় কন্ডিশন অনেকটাই পরিচিত। বিশেষ করে ডারউইনের আবহাওয়া বাংলাদেশের মতোই, একটু গরম। পিচ থেকেও ফাস্ট বোলাররা সাহায্য পাবে। মুভমেন্ট থাকবে, বাউন্সও থাকবে। আমরা যদি নিজেদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে পারি, তাহলে ফাস্ট বোলারদের জন্য অনেক সুযোগ থাকবে।’
হাসান ছাড়াও এলপিএলে খেলছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নুরুল হাসান সোহান। তাদের দুজনকেই দলে নিয়েছে গল গ্যালান্টস। জাফনার জার্সিতে নিয়মিত পারফর্ম করছেন সাকিব আল হাসান। একই দলের হয়ে খেলবেন তাওহীদ হৃদয় ও রিপন মণ্ডল। দ্রুতই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তারা। বিসিবি সবাইকে এনওসি দিচ্ছে এ কারণেই এতো ক্রিকেটার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন বলে দাবি হাসানের।
তিনি বলেন, ‘এখানে যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন খেলোয়াড়ের জন্য ভালো একজন এজেন্টও দরকার হয়। বিসিবিও অনেক সহযোগিতা করছে। এ বছর অনেক খেলোয়াড়ই খেলার সুযোগ পাচ্ছে, কারণ বিসিবি সবাইকে এনওসি দিচ্ছে। পাশাপাশি যারা বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের জন্যও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’