চেন্নাই সুপার কিংস থেকে ট্রেডের মাধ্যমে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দিয়েছিলেন কারান। দলটির পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর কুঁচকির চোটের কারণ দেখিয়ে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ান ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার। পরে তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয় শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকাকে।
আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হারের মধ্য দিয়ে রাজস্থানের এবারের অভিযান শেষ হয়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাঙ্গাকারা জানান, কারানকে সারে'র হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলতে দেখে তিনি হতাশ হয়েছেন।
সাঙ্গাকারা বলেন, 'আমাদের জানানো হয়েছিল স্যাম কারানের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন দেখছি সে সারে'র হয়ে দুই-তিনটি ম্যাচ খেলেছে। বিষয়টি হতাশাজনক। আমরা অবশ্যই চাইতাম সে এখানে আমাদের হয়ে খেলুক। তবে শুরুতেই বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে বিকল্প হিসেবে দাসুন শানাকাকে পাওয়া ভালো হয়েছে।'
টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে এখন পর্যন্ত সারে'র তিনটি ম্যাচেই অধিনায়কত্ব করেছেন কারান। বোলিং না করলেও ব্যাট হাতে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক তিনি।
এর আগে নিজের চোট নিয়ে কারান বলেছিলেন, 'এই চোটটা কিছুদিন ধরেই আমাকে ভোগাচ্ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। কয়েকটি স্ক্যানে যথেষ্ট ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। চোটটা আমার খেলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আইপিএল মিস করা খুবই হতাশার ছিল। এখন লক্ষ্য পুনর্বাসনের মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরা। শরীর যখন প্রস্তুত হবে, তখনই মাঠে ফিরব। আইপিএল দেখা কঠিন, কারণ আমি নিজেও সেখানে থাকতে চাইতাম। কিন্তু চোট খেলাধুলারই অংশ।'
কারানের ভবিষ্যৎ আইপিএল ক্যারিয়ারে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সাঙ্গাকারা মনে করেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিসিসিআইয়ের কঠোর নীতি প্রয়োজনীয়।
তিনি বলেন, 'এ ধরনের বিষয়ে কঠোর নীতি থাকা জরুরি। বিসিসিআইয়ের এমন একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই চোটে পড়ে। যদি সত্যিই গুরুতর ও মৌসুম-শেষ করা চোট হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা বুঝি। আমাদের দলেও বেশ কয়েকজন চোটে আক্রান্ত হয়েছে।'
সাঙ্গাকারা আরও যোগ করেন, 'অ্যাডাম মিলনে, শিমরন হেটমায়ার, লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস, কোয়েনা মাফাক এদের অনেকেই খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। কিন্তু তারা এখানে ছিল, অনুশীলন করেছে, দলের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে। অন্যদের মতোই কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং পুরো যাত্রায় দলকে সমর্থন দিয়েছে।'
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এবারের মৌসুমে নিলামের পর নাম প্রত্যাহার করায় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। আইপিএলেও জাতীয় দল বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) যেন এ ধরণের কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় তেমনটাই প্রত্যাশা এই শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তির।
সাঙ্গাকারা বলেন, 'কোনো খেলোয়াড় আসবে কি আসবে না, সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে বিসিসিআইয়ের নীতি এখন খুবই কঠোর, এবং সেটাই থাকা উচিত। যাতে চুক্তিগত দায়িত্বগুলো সঠিক ও আন্তরিকভাবে পালন করা হয়। আমার বিশ্বাস, এতে আইপিএলের প্রতিটি দলই উপকৃত হবে।'