আধুনিক ক্রিকেটের সেরাদের একজন

ছবি:

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছিলেন একজন লেগ স্পিনার হিসেবে। ওয়ানডে অভিষেকে ব্যাটও করা হয়নি তার। তবে নিজের প্রধান কাজ বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ২টি। সাদা পোষাকের ক্রিকেটে অবশ্য ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাও নয় নম্বরে। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট রান ১৩ আর উইকেট নিয়েছিলেন ৩টি।
যেকোনো বোলারই এমন সাদামাটা অভিষেকের পর বোলিংয়ে বাড়তি নজর দেবেন। ভোরের সূর্য যেমন পুরো দিনের পূর্বাভাস দেয় না। তেমনি এই লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ারও অন্য বোলারদের মত হয়নি। কে জানতো একজন ‘লেগ স্পিনার’ ব্যাটসম্যানদের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে রীতিমতো খুঁটি গেড়ে বসবেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ বছরে এসে?
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেদিনের সেই অপ্রথাগত ব্যাটসম্যানই ৬০ টেস্টে ১১০ ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছেন ৫৯৭৪ রান। ২৩ সেঞ্চুরি আর ২২ ফিফটিতে এই রান করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড়টাও যেকোনো ব্যাটসম্যানের কাছেই ঈর্ষনীয় ৬৩.৫৫ । টেম্পারমেন্ট, ট্যাকনিক ও ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা দিতে হয় টেস্ট ক্রিকেটে। সেই অপ্রথাগত ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে এই ব্যাপারটিকে 'ডাল-ভাত' বানিয়ে ফেলেছেন।
দেশ কিংবা দেশের বাইরে কোথায় ব্যাট ছুটছে না? সব জায়গাতেই রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে চলেছেন তিনি। বলছিলাম, অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের কথা। ক্রিকেটের ব্যাকরণে স্মিথের ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা করা যাবে না। কারণ, প্রতিটি বলেই লেগ স্টাম্প থেকে সরে এসে অফ স্টাম্পে এসে বলের দিকে ব্যাট টানেন।
ব্যাটের লিফটও অন্য প্রথাগত ব্যাটসম্যানদের চেয়ে আলাদা। লম্বভাবে নয় বরং প্রথম স্লিপ থেকে ব্যাট টেনে আনেন তিনি। তারপরও গত চার বছরে সাদা পোষাকে স্মিথই ছিলেন নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। নিজেকেই যেন ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছিলেন এই অজি দলপতি। ২০১৪ সালের প্রথম টেস্ট, সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেছেন।
বছরজুড়ে ৫ সেঞ্চুরি আর ৪ ফিফটিতে ১ হাজার ১৪৬ রান করেছিলেন সেবার। ২০১৫ সালে ৬ সেঞ্চুরি আর ৫ ফিফটিতে ১৪৭৪ রান। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টনে ১৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলতে গিয়ে কিংস্টনের ঝাল লর্ডসে মিটিয়ে হাঁকালেন ২১৫ রান।
গত চার বছরে সবচেয়ে কম সেঞ্চুরি করেছেন ২০১৬-তে। মোট ১০৭৯ রান করার বছরে সেঞ্চুরি ‘মাত্র’ ৪টি। আর ২০১৭ সালে আবারও ৬ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজেকে আধুনিক ক্রিকেটের সেরাদের একজনে পরিণত করেছন স্মিথ। ৬ সেঞ্চুরি আর ৩ ফিফটিতে ১৩০৫ রান করেছেন অজি দলপতি। এর মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা ২৩৯ রান আর ভারতের বিপক্ষে ধর্মশালায় ১১১ রানের কথা আলাদা বলতে হবে।
স্মিথের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যাবে ব্যাট হাতে তার প্রিয় প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ইংলিশদের বিপক্ষে ৪০ ইনিংসে ১৯৪৩ রান করেছেন স্মিথ। তারপর ভারতের বিপক্ষে, ২০ ইনিংসে করেছেন ১৪২৯ রান। তবে গড়ের বিচারে প্রিয় শিকার ক্যারিবীয় বোলাররা। তাঁদের বিরুদ্ধে ৭ ইনিংসে ১৬৫.৬৬ গড়ে ৪৯৭ রান করেছেন অজি দলপতি।
তার সবচেয়ে সমীহের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। টাইগারদের বিপক্ষে ৪ ইনিংসে ১১৯ রান করেছেন তিনি, সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেছিলেন ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে। স্মিথ হয়তো তার ক্যারিয়ারে শচীনকে নাও ছাড়াতে পারেন। ছুঁতে না পারেন স্বদেশী রিকি পন্টিংকেও। তবে অপ্রথাগত ব্যাটিংয়ে স্মিথ যা করেছেন তাই তো ইতিহাস।
