বাংলাদেশের চাই ৭ উইকেট, আফগানিস্তানের দরকার ৩৪৭ রান

আফগানিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজ
এসিবি
এসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
হাসান মাহমুদের বলে স্লিপে রহমত শাহর সহজ ক্যাচই পেয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। সেটা লুফে নিতে পারেননি তিনি। আফগানিস্তানের অধিনায়ককে রান আউট করারও সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে ইবাদত হোসেন দ্রুততার সঙ্গে থ্রো করতে না পারায় সেই যাত্রায়ও বেঁচে যান রহমত। সুযোগ মিসের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। জীবন পেয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। যদিও তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন ইবাদত।

যদিও কাজটা এখনো শেষ হয়নি বাংলাদেশের। আবুধাবি টেস্টে জিততে হলে পঞ্চম ও শেষ দিনে ৭ উইকেট নিতে হবে সফরকারীদের। নাজমুল হোসেনের দলের চেয়ে কাজটা একটু বেশি কঠিন আফগানিস্তানের। ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করা আফগানদের এখনো প্রয়োজন ৩৪৭ রান। ড্র করতে হলেও শেষ দিনের পুরোটা সময় ব্যাটিং করতে হবে স্বাগতিকদের।

আবুধাবিতে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ইবাদতের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে লিটনকে ক্যাচ দেন আব্দুল মালিক। প্রথম ইনিংসেও প্রায় একইভাবে আউট হয়েছিলেন তিনি। মালিককে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৫০তম উইকেট তুলে নেন ইবাদত।

একটু পর শহিদুল্লাহ কামালকে বিদায় করেন হাসান মাহমুদ। ডানহাতি পেসারের বলে পুল করতে গিয়ে লিটনকে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ২৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রহমত ও সেদিকউল্লাহ। যদিও তাদের দুজনের জুটি ভাঙতে পারতো শুরুতেই। তবে ক্যাচ লুফে নিতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। রান আউটের সুযোগও হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।

এরপর সাবধানী ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রহমত ও সেদিকউল্লাহ। মিরাজকে ছক্কা মেরে ১২১ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন রহমত। যদিও পঞ্চাশের পরই ফিরতে হয়েছে তাকে। ইবাদতের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে লিটনকে ক্যাচ দিয়েছেন। আফগানিস্তানের অধিনায়ক আউট হয়েছেন ৫২ রানে। রহমতের বিদায়ে ভাঙে সেদিকউল্লাহর সঙ্গে ৮২ রানের জুটি।

রহমতের ক্যাচ নিয়ে রেকর্ডও গড়েছেন লিটন। প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচের সঙ্গে একটি স্টাম্পিং করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো পর্যন্ত তিনটি ক্যাচ নিয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক। সবমিলিয়ে আবুধাবি টেস্টে লিটন আটটি ডিসমিসাল করেছেন। ভেঙেছেন খালেদ মাসুদের রেকর্ড। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন তিনি।

৬ ডিসমিসাল নিয়ে তিনে আছেন নুরুল হাসান সোহান। শেষ বিকেলের বাকিটা সময় অনায়াসে কাটিয়ে দিয়েছেন সেদিকউল্লাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি। ধৈর্য্যের পরীক্ষায় উতরে গিয়ে ১২৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত সেদিকউল্লাহ। তাকে সঙ্গ দেওয়া হাশমতউল্লাহ ২৭ বলে ১৯ রান করেছেন। বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত দুইটি ও হাসান একটি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে সকালের শুরুতে দুই স্পিনার কাইস আহমেদ ও জিয়া উর রহমানের বিপক্ষে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে থাকেন লিটন। যদিও স্লিপে ক্যাচ দিয়ে জীবনও পেয়েছেন তিনি। কাইসের বলেও ফিরতে পারতেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলার চেষ্টায় কাইসকে ক্যাচ দিলেও সেটা তিনি লুফে নিতে পারেননি।

জীবন পেয়ে সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন লিটন। কাইসকে চার মেরে বাংলাদেশের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। প্রথম ঘণ্টা অনায়াসে কাটিয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ডানহাতি এই ব্যাটার। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরও দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি।

তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম সেশনের পুরোটা সময় দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার। লিটন ও মিরাজের ব্যাটে প্রথম সেশনে বিনা উইকেটে ১১৪ রান তোলে সফরকারীরা। লাঞ্চ থেকে ফিরে ৯২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন মিরাজ। একটু পর ১১৫ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেন লিটন।

যদিও তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরই ফিরতে হয়েছে তাকে। সালিম সাফির শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১০২ রানে। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে। লিটন আউট হতেই ৭ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে ৪৭৮ রানের লিড পায় সফরকারীরা।

আরো পড়ুন: