আকবর বীরত্বে ম্যাচ বাঁচালো রংপুর, ময়মনসিংহের হয়ে মাহফিজুলের সেঞ্চুরি

এনসিএল
আকবর আলী ও মাহফিজুল ইসলাম, ফাইল ছবি
আকবর আলী ও মাহফিজুল ইসলাম, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
কোনো রান না তুললেই ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের শংকা জাগিয়েছিল রংপুর। শেষদিনের শুরুতে আরও ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু দলের ত্রাতা হয়ে আসেন অধিনায়ক আকবর আলী। টেলএন্ডারদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে ম্যাচ ড্রয়ের পথে নিয়ে যান তিনি। তার ১৩২ বলে ৬২ রানের ইনিংসে হার এড়ায় রংপুর। আরেক ম্যাচে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ভুল করেননি মাহফিজুল ইসলাম রবিন। দ্বিতীয় ইনিংসে সিলেটের চেয়ে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে মাহফিজুল তুলে নেন সেঞ্চুরি। সেই সাথে আরিফুল ইসলাম ও আবদুল মজিদের ফিফটিতে ম্যাচ ড্র করে ময়মনসিংহ।

তৃতীয় দিনে ঢাকার বিপক্ষে শেষ বিকালে কোনো রান না তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল রংপুর। বিপর্যয় থেকে রংপুরকে তোলার চেষ্টা চালান ইকবাল হোসেন ও আবু হাশিম। কিন্তু ইকবাল ২০ ও হাশিম ১৫ রানে ফিরে গেলে ৪২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের খুব কাছে পৌঁছে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেই ধ্বংসস্তুপ থেকে রংপুরকে টেনে তোলেন অধিনায়ক আকবর। ষষ্ঠ উইকেটে চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সাথে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি গড়েন আকবর।

দলীয় ১০৮ রানে তাইবুর রহমানের বলে আউট হয়ে যান ৬৯ বলে ২৭ রান করা রিজওয়ান। এরপর টেল এন্ডারকে সাথে নিয়ে হাড় এড়ানোর চেষ্টা করতে থাকেন আকবর। টেলএন্ডারদের সাথে নিয়ে আরও ১৭ ওভার উইকেটে কাটিয়ে দেন আকবর। শেষ পর্যন্ত আকবরের প্রতিরোধ ভাঙেন আরিফ আহমেদ। আরিফের বলে বোল্ড হবার আগে ১৩২ বলে ১ ছক্কা ও ৫ চারে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

১৪৯ রানে অলআউট হয় রংপুর।ঢাকার সামনে তখন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৬ রান। বিনা উইকেটে ৯ রান তোলার পর আলোক স্বল্পতায় বন্ধ হয় খেলা। শেষ বিকালে আর খেলা শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয়।

আরেক ম্যাচে এক উইকেটে ১৪৮ রানে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল ময়মসিংহ। আগের দিনের রানের সাথে মাত্র ২ রান যোগ করতেই নাইট ওয়াচম্যান রাকিবুল হাসানের উইকেট হারায় ময়মনসিংহ। তাকে ফেরান নাঈম আহমেদ। ৮৬ রানে অপরাজিত থাকা মাহফিজুল এবার আর প্রথম ইনিংসের মতো ভুল করেননি। নিজের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। তবে সেঞ্চুরির পর ইনিংস আর বড় করতে পারেননি তিনি।

নাঈমের তৃতীয় শিকার হয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি, করেন ১৯৭ বলে ১১ টি চারে ১০০ রান।মাহফিজুলের আউটের পর মিডল অর্ডারে আরিফুল ইসলাম ও আবদুল মজিদের ব্যাটে চড়ে সংগ্রহ বড় করতে থাকে ময়মনসিংহ। দুইজন গড়েন ৮১ রানের জুটি। নাঈমের চতুর্থ শিকার হয়ে স্টাম্পিং হবার আগে ১২৯ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলেন আরিফুল। অন্যদিকে ১৫৫ বলে দুই ছক্কা ও ছয়টি চারে ৮৭ রান করেন মজিদ। তাকে বোল্ড করে নিজের পাঁচ উইকেট পূরণ করেন নাঈম।

৬ উইকেটে ৩৭২ রান নিয়ে তখন ময়মনসিংহের লিড ৩৫৬ রানের। তখন দুই অধিনায়কের সম্মতিতে ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি। সিলেটের হয়ে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯ রানে ৫ উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: