টেস্টে আধিপত্যের ‘এখনই সেই সময়’: হাসান

বাংলাদেশ ক্রিকেট
হাসান মাহমুদ, ফাইল ছবি
হাসান মাহমুদ, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ডারউইনে ৯ উইকেটের সেই জয় শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ই নয়, বরং লাল বলের ক্রিকেটে দলটির বদলে যাওয়ারও বড় প্রমাণ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশ এখন তাই আরও বড় স্বপ্ন দেখছে।

গত দুই বছরে ১৩ টেস্টের ছয়টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ অবশ্য ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে, তবে ডারউইনের জয়টি দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশের সামনে এখনও ছয়টি টেস্ট। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি দেশের মাটিতে, আর সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে তারা।

ডারউইনের জয়ে বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া হাসান মাহমুদ মনে করেন, বাংলাদেশ এখন টেস্টে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, আধিপত্য বিস্তারেরও সামর্থ্য রাখে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রাখা এই পেসার এএফপিকে বলেন, 'আমাদের দিকে এখন গতি আসছে, এটা নিশ্চিত। পরিবেশ এমন যে বাংলাদেশ এখন টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্য করতে পারে। আমরা আগে টেস্টে আধিপত্য দেখাতে পারিনি। এখনই সেই সময়।'

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়কে সামনে আরও বড় সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন হাসান। তার মতে, ঘরের মাঠে আসন্ন ম্যাচগুলোতে ভালো করতে পারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার স্বপ্নও বাস্তব হতে পারে। হাসান বলেন, 'আমরা যদি ঘরের মাঠে চারটি ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে কেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে পারব না? এখন বাংলাদেশের স্বপ্ন সেটাই।'

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পরিবর্তনের সঙ্গে পেস বোলিংয়ের উন্নতিকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন হাসান। এই পেসার মনে করেন, বাংলাদেশের ফাস্ট বোলারদের নিয়ে বাইরের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। হাসান বলেন, 'আমরা খেলা শুরু করার পর থেকেই চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তারা বুঝতে পারে বাংলাদেশেও ভালো মানের ফাস্ট বোলার আছে, যারা বিশ্বমানের হতে পারে।'

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের বোলিং পরিকল্পনাতেও আগ্রাসী ছিলেন হাসান। ব্যাটারদের সহজে রান করার সুযোগ না দিয়ে শর্ট বল দিয়ে চাপ তৈরি করাই ছিল তার লক্ষ্য। নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে না গিয়ে আক্রমণাত্মক বোলিং করে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে হাসান বলেন, 'আমি শুধু নিজের কাজ করেছি এবং বোলিং করে গেছি। তাদের সহজে মারার মতো কিছু দিইনি। শর্ট বল দিয়ে আক্রমণ করেছি এবং নিজের মতো করে বোলিং করে গেছি। তারা যদি আমাকে মারে, তাহলে মারুক।'

সামনে তাই বাংলাদেশের জন্য সুযোগ যেমন বড়, পরীক্ষাটাও তেমন কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের চার টেস্টে ভালো ফলের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে দলটি। হাসানের বিশ্বাস, পেসাররা ফিট থাকলে এবং ব্যাটাররা ফর্ম ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের উন্নতির এই রেখা থামবে না। হাসান বলেন, 'দেখুন, টেস্ট ক্রিকেটে আমরা কতটা উন্নতি করেছি। পেসাররা যদি ভালো অবস্থায় থাকে এবং ব্যাটাররা ফর্মে থাকে, তাহলে আমরা আরও উঁচু পর্যায়ে যেতে পারব।'

আরো পড়ুন: