দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে বিসিবি শুরু থেকেই আগ্রহী ছিল। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বরাবরই ভারত সফরের ব্যাপারে নিজের আশার কথা জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে এই সফর নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সাথে বৈঠকও করেন তামিম। বিশেষ করে গত দুই বছরে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর ক্রিকেটের মাধ্যমে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ হিসেবে সিরিজটিকে দেখা হচ্ছিল।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের কয়েকজন সদস্য ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও এ নিয়ে ভারতের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'দিল্লি থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইতে পারে না।'
শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের পর বিসিবির অভ্যন্তরেও ভারতের সফর নিয়ে সংশয় আরও বেড়েছে। বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। তবে সে সময় বিষয়টির সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও জড়িত ছিল বলে বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি ছিল। সেই ঘটনার পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়।
তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলানোর আশা তৈরি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও উন্নতির সম্ভাবনা দেখছিল বিসিবি। ভারতের মতো বড় ক্রিকেট শক্তিকে বাংলাদেশে এনে সিরিজ আয়োজনের জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার আর্থিক গুরুত্বও কম নয়। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজন করলে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, পৃষ্ঠপোষকতা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বড় ধরনের আর্থিক লাভ করতে পারে আয়োজক বোর্ড। একই সঙ্গে দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও এই সিরিজ ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনাকে এখন অনেকটাই দূরে সরিয়ে দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিসিবির ভেতরেও সিরিজটি নিয়ে আশা আরো কমেছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিসিবি কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, 'সাম্প্রতিক সব ঘটনার পর আমি সিরিজটি নিয়ে এখন সন্দিহান।'
সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ার কথাও জানান তিনি। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমি মনে করি না, সিরিজ নিয়ে অন্য পক্ষ থেকে আমরা কোনো সাড়া পাব। সত্যি বলতে, এটি ২৮ আগস্টের মধ্যেই হওয়ার কথা ছিল। আমাদের হাতে আর কত দিনই বা আছে?'
সব চেষ্টা করেও পরিস্থিতি এখন ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছেন তিনি। বিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিষয়টি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।'