আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার টানা ব্যস্ত টেস্ট সূচি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারলে আগামী এক বছরে সর্বোচ্চ ২১টি টেস্ট খেলতে পারে তারা। বাংলাদেশ সিরিজের পর রয়েছে সাউথ আফ্রিকা সফর, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের হোম সিরিজ, ভারতে পাঁচ ম্যাচের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ টেস্ট এবং সবশেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে মর্যাদার অ্যাশেজ।
সামনে ব্যস্ত মৌসুম থাকলে বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছে না অজিরা। ইনজুরি কাটিয়ে বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই দলে ফিরেছেন অধিনায়ক কামিন্স, হ্যাজলউড ও স্পিনার নাথান লায়ন। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বোর্ডার বলেন, ‘আমি সব সময় সেরা দল খেলানোর পক্ষেই। কেউ যদি চোটে পড়ে, তাহলে তার জায়গায় অন্য কেউ আসবে। এ কারণেই তো শেফিল্ড শিল্ড আছে। সেখানে অনেক তরুণ ক্রিকেটার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।’
অভিজ্ঞ পেসারদের নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর মিচেল স্টার্ক দেখিয়ে দিয়েছে, এই বয়সে এসে ওরা যত বেশি বোলিং করে, ততই আরও ভালো হয়ে ওঠে। স্টার্ককে দেখুন, জশ হ্যাজলউডও আশা করি পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরবে, অধিনায়কও থাকবে। আমার মনে হয়, যতটা সম্ভব বেশি বোলিং করলে ওরা আরও ভালো হবে। প্রয়োজন হলে তখন বিশ্রাম দেওয়া যেতে পারে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরখ করার বড় সুযোগ বলে মনে করেন বোর্ডার। তার মতে, এই সিরিজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে উপরের সারির ব্যাটারদের ছন্দে ফেরা। আর সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে উইকেটের ওপর। বাংলাদেশ সিরিজে তাই ভারসাম্যপূর্ণ উইকেট চান সাবেক অজি অধিনায়ক।
গত অ্যাশেজে কয়েকটি ম্যাচ মাত্র দুই থেকে আড়াই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বোর্ডার বলেন, ‘গত বছর আমরা কয়েকটি বিপর্যয় দেখেছি। সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেটে ম্যাচ দুই-আড়াই দিনেই শেষ হয়ে গেছে। বোলাররাই পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এবার আমি এমন উইকেট দেখতে চাই, যেগুলো ভালো, সমতল ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বদলাবে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে তখন ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই দিন ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেট চাই। তাহলে আমাদের ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারবে। কারণ নতুন লাল বলে, যখন বল সিম করছে, তখন ভালো ব্যাটিং করাও খুব কঠিন। ঠিকঠাক খেললেও এজ হয়ে আউট হতে পারেন, আবার মারতে গেলেও আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তখন ব্যাটাররা দুই দিক থেকেই চাপে পড়ে যায়।’
বোর্ডার আরো বলেন, ‘এটা ক্রিকেটারের মানের বিষয় নয়, বরং উইকেটের বিষয়। আমি এমন উইকেট চাই, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। শুরুতে ব্যাটাররা সুবিধা পাবে, পরে স্পিনার ও পেসাররা ম্যাচে প্রভাব ফেলবে। তেমন উইকেট হলে তবেই আমরা বুঝতে পারব আমাদের ব্যাটিং আসলে কতটা ভালো।‘