সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের কাণ্ডারি হয়ে উঠেছেন নাহিদ। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় ডানহাতি পেসারের। এখনো পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে ১২ টেস্টে নিয়েছেন ৩৮ উইকেট। তবে নাহিদ সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন গতিময় বোলিংয়ে। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে এখনো পর্যন্ত গড়ে ঘণ্টায় ১৪১.৫৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করেছেন।
গড়ে হিসেবে করলে মিচেল স্টার্কের চেয়েও এগিয়ে আছেন তিনি। তবে সবচেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারির ক্ষেত্রে শীর্ষে আছেন ঘণ্টায় ১৫৭.৩৯ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করা অস্ট্রেলিয়ান পেসার। দুইয়ে থাকা নাহিদ দ্রুততম ডেলিভারি ঘণ্টায় ১৫১.৯৬ কিলোমিটার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নাহিদের এমন গতিময় বোলিং দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। তবে চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারছেন না ডানহাতি এই পেসার।
নাহিদ না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই আক্ষেপে পুড়ছেন সবাই। কদিন আগে খারাপ লাগার কথা জানিয়েছেন ইয়ান বিশপও। সেই তালিকায় আছেন বাংলাদেশের সাবেক সহকারী কোচ সালাহউদ্দিনও। নাহিদ না থাকলেও তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও মুশফিক হাসানদের উপর আস্থা রাখছেন। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বোলিং করতে পারলে ভালো করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমিও খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম যে কবে দেখবো নাহিদ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের আসলে বাউন্সার মারতেছে। খেলার একটা রোমাঞ্চ, আমি নিজেও অনেক রোমাঞ্চিত ছিলাম যে নাহিদ রানা খেলবে। যেহেতু হয় নাই, এখানে হা-হুতাশ করে লাভ নাই। কিন্তু আমি মনে করি অন্য বোলার যারা আছে তারাও যদি একটু বুদ্ধি তরে বল করতে পারে আমি মনে করি তারাও অনেক ভালো করবে।’
২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে তুলনামূলক উন্নতি করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যদিও অজিদের চেয়ে এখনো ঢের পিছিয়ে। কদিন আগে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক জানিয়েছেন, নিজেদের প্রক্রিয়া মেনে ভালো ক্রিকেট খেলতে চান তারা। বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী হচ্ছেন সালাহউদ্দিন নিজেও।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট দল নিয়ে আমি সবসময় আশাবাদী। আমার কাছে মনে হয় টেস্ট দলে যারা খেলে তারা নিজেদের সম্পর্কে অনেক ভালো সচেতন এবং নিজেদের লক্ষ্যটা তারা ভালো জানে, অন্যদের চেয়ে গোছানো। আমার কাছে মনে হয় এখানে ভালো না হওয়ার আসলে যুক্তি দেখি না। তাদের ইচ্ছে বা লক্ষ্য বলেন...বাস্তবিক অর্থে তারা অনেক ভালো কিছু চিন্তা করে। আমাদের বাইরে যে চারটা টেস্ট আছে আমি আশা করব যে এখান থেকে যদি আমরা ভালো কিছু ম্যাচ বের করতে পারি। দেশে আমাদের চারটা ম্যাচ আছে সেই চারটা যদি জিতে যাই তাহলে আমার মনে হয় শীর্ষ এক, দুই ও তিনের মধ্যে থাকতে পারব।’