আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরিতেই বেশি মনোযোগ হান্নানের

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
২০২০ সালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। তবে পরের কয়েক বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি টাইগার যুবারা। আগামী বিশ্বকাপে শিরোপা জেতায় নজর থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরিতেই বেশি মনোযোগ দেবেন হান্নান সরকার। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ জানান, বিসিবি সভাপতি ও গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এসব নিয়ে সিরিয়াস আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের হয়ে ১৭ টেস্ট এবং ২০ ওয়ানডে খেলেছেন হান্নান। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০১০ সালে বিসিবির লেভেল-ওয়ান এবং পরবর্তীতে লেভেল-টু কোচিং কোর্স করেন তিনি। কোচিং কোর্স করানোর পর কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। বিপিএলের প্রথম দুই আসরে দুরন্ত রাজশাহীর সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই ব্যাটার। দুই মৌসুম পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিপিএলে আর অংশ নেয়নি।

পরবর্তীতে রাজশাহী কিংসেও সহকারী কোচ ছিলেন হান্নান। এ ছাড়া ডিপিএলে আবাহনী ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ব্যাটিং কোচও ছিলেন। এ ছাড়া এনসিএল ও বিসিএলেও কাজ করেছেন কোচ হিসেবে। কোচিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের মার্চে হান্নান যোগ দেন জাতীয় নির্বাচক প্যানেলে। যদিও খুব বেশিদিন সেই দায়িত্বে থাকেননি।

২০২৫ সালে নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে ডিপিএলে আবাহনীর প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন তিনি। মূলত কোচিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তেই এমন সিদ্ধান্ত নেন হান্নান। আকাশি-নীলদের চ্যাম্পিয়ন করে আগামী ডিপিএলের জন্য যোগ দেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জে। কদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রধান কোচের দায়িত্বেও ছিলেন হান্নান। গত বিপিএলে হান্নানের অধীনে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

বাংলাদেশ যুব দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়াকে নিজের জন্য বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন হান্নান। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন তো কোচিং থাকার অনেক আগে থেকেই ছিল। নির্বাচক হওয়ার আগেও কোচিংয়ে ছিলাম। ২০১১ সালে খেলা ছাড়ার পর তিন বছর প্রিমিয়ার লিগে কোচিং করিয়েছি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোচ ছিলাম তারপর নির্বাচকের দায়িত্বে আসা। ৯ বছরের জার্নি শেষ করে একটা সুযোগ আসলো।’

‘বিশেষ করে আমাদের বোর্ড যখন দেশি কোচদের অগ্রাধিকার বা প্রমোট করছে। সেখান থেকেই আমার স্বপ্নটা আবার নতুন করে জাগে। সুযোগটা যখন আসে তখন এক বছর থাকতেই আমি নির্বাচক থেকে পদত্যাগ করি। নিশ্চিতভাবেই আমার জন্য ভালো একটা সিদ্ধান্ত ছিল। সেটার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যে ক্রিকেট বোর্ডও আমার উপর বিশ্বাস রাখছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব নিচ্ছি, এটা আমার জন্য বড় একটা প্ল্যাটফর্ম।’

২০২০ সালে বিশ্বকাপ জেতা দল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন শরিফুল ইসলাম, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিমের মতো ক্রিকেটাররা। এশিয়াতে যুব দল থেকে সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটারের জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। ভবিষ্যতের জন্য ভালো মানের ক্রিকেটার তৈরিতে তাই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন হান্নান।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের সভাপতি এবং গেইম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যখন কথা বলি তখন সিরিয়াস আলোচনা হয়েছে। খেলোয়াড় তৈরি করাটা আসল ফোকাস থাকবে কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ দল শেষ হওয়ার পরে আমরা যদি ধরি অনূর্ধ্ব-২৩ দল, এইচপি যেখানেই যাবে খেলোয়াড়রা সেখানেই যেন পাঁচ, সাত, দশজন খেলোয়াড় যায় যেন বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে এই ধরনের খেলোয়াড় তৈরিতে ফোকাস থাকবে। রেজাল্টের দিকে নিশ্চিতভাবেই নজর থাকবে কিন্তু মূল ফোকাসটা মানসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি করা বা আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির জন্য প্রসেস মেইনটেইন করা। সেটার সঙ্গে রেজাল্ট সময়ই বলে দেবে।’

আরো পড়ুন: