ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি, বোলার হিসেবেও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাটে বলে পারফর্ম করেছেন মোসাদ্দেক। বিশেষ করে গত বছর আবাহনীকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) শিরোপা এনে দিলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তবে মোসাদ্দেকের চাওয়া তাকে সাকিবের সঙ্গে যেন মিলিয়ে ফেলা না হয়।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই অলরাউন্ডার বলেন, 'সাকিব ভাই যখন যে ম্যাচটাই খেলতেন না ওইটাতেই একটা ঘাটতি সবসময় আমরা অনুভব করছি। কিন্তু এখনও সেই ঘাটতিটা হচ্ছে। যখন সাকিব ভাই খেলে আপনি একটা একটা অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান বা একটা অতিরিক্ত বোলার আপনি খেলাতে পারেন। উনি না থাকাতে এই সুযোগটা আমাদের জন্য একটু কম। সেক্ষেত্রে যারা কিনা ওই বদলি হিসেবে খেলছে তাদের জন্য চাপটা অনেক বেশি। আমি বলবো যে সাকিব ভাইয়ের সাথে অন্য একজনকে মিলিয়ে ফেলছেন আসলে। সেইটা কখনোই ঠিক না।'
চলতি ডিপিএলে ৬ ইনিংসে ৩১০ তাও আবার ৭৭.৫০ গড়ে। বল হাতে ১২ উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক। আর তাতেই নির্বাচকদের নজর কাড়তে পেরেছেন তিনি। মোসাদ্দেক মনে করেন কোনো খেলোয়াড়কে অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা করলে বাড়তি চাপ চলে আসে। সেই তুলনা না করে সবাইকে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দিয়ে অনুপ্রাণিত করা উচিত। তা ছাড়া সাকিব যেভাবে ব্যাটিং-বোলিংয়ে সমান তালে পারফর্ম করে গেছেন নিয়মিত। সেটা বিশ্ব ক্রিকেটেই বিরল।
মোসাদ্দেক বলেন, 'উনার মতো করে আসলে দুইটা বিভাগ একই সাথে এভাবে করে সামলানো এটা বিশ্ব ক্রিকেটেই বিরল একটা ব্যাপার। সেই জায়গা থেকেই আমি বলব যে যখন এই অতিরিক্ত চাপটা একটা খেলোয়াড়ের ওপর চলে আসে, তার জন্য পারফর্ম করা একটু কঠিন হয়ে যায়। আমার মনে হয় যে প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে সেই জায়গাটা দেওয়া উচিত, তার জায়গা থেকে সেই স্বাধীনতাটা দেওয়া এবং তাকে পারফর্ম করার জন্য আমাদের সবার মিলে অনুপ্রাণিত করা।'
মোসাদ্দেক মনে করেন জাতীয় দলে ইমপ্যাক্ট রাখাটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যোগ করেন, 'ছয়-সাতে ব্যাটিং করে, মানে আমার কাছে মনে হয় না তাদের পরিসংখ্যান থেকে শুরু করে অনেক লম্বা কোনো কিছু দরকার আছে... আমার কাছে মনে হয় যে ওইখানে প্রভাবটাই খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেটা চেষ্টা করব যে যদি আমার সুযোগ আসে আমি সেই প্রভাবটা রাখার চেষ্টা করব।'