এবারের আসরে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী। নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও হকি খেলোয়াড় আমিরুল ইসলামকে পেছনে ফেলে তিনি জিতে নেন ২০২৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের (স্পোর্টস পার্সন অব দ্য ইয়ার) সর্বোচ্চ খেতাব। একই সঙ্গে ক্রীড়ামোদীদের ভোটে তিনি জয় করেন পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড। ২০২৫ সালে ফুটবলে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও পান তিনি। ট্রেবল জয়ে এবারের বিএসপিএ অ্যাওয়ার্ডে রাজত্ব করেন এ ফুটবলার।
পুরস্কার পাওয়ার পর ভিডিও বার্তায় হামজা বলেন, আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুবই গর্ববোধ করছি। কুল-বিএসপিএ অ্যাওয়ার্ড দেশের ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার। আমি আমার পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও বন্ধুদের এবং ফ্যানদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, সারা বছর ধরে আমাকে ও জাতীয় দলকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য।
বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক। তিনি বলেন, বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনেক বছর ধরে হয়ে আসছে। আগে ফুটবলার হিসেবে এখানে আসতাম। এখন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে আসলাম। আমার মনে হয়, এটি আমাদের ক্রীড়াঙ্গণের অর্জন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাইদ। দেশের স্বনামধন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কুল এবার নিয়ে টানা ১১বার এই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। মালিক মোহাম্মদ সাইদ বলেন, বিএসপিএ প্রাচীন ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন এবং আমি বিএসপিএকে ধন্যবাদ জানাই এই অ্যাওয়ার্ডে আমাদেরকে সাথে রাখার জন্য।
সভাপতির বক্তব্যে রেজওয়ান উজ জামান রাজিব বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের স্পোর্টস সাংবাদিকতা বিশ্বমানের। কিন্তু এখানে অনেক কিছু উন্নতি করার সুযোগ আছে। বিএসপিএ একটি স্পোর্টস জার্নালিস্ট ইনস্টিটিউট করতে চায়। এজন্য সকলকে পাশে চাই।
১৯৬৪ সালে দেশে প্রথম ক্রীড়া পুরস্কারের প্রবর্তন করা বিএসপিএ এবার ১৬টি বিভাগে সর্বমোট ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠক এবং সংস্থাকে পুরস্কৃত করেছে।
একনজরে কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর বিজয়ীরা
১. বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ: হামজা চৌধুরী (চ্যাম্পিয়ন), ঋতুপর্ণা চাকমা (রানার-আপ), আমিরুল ইসলাম (রানার-আপ)
২. পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড: হামজা চৌধুরী
৩. বর্ষসেরা ক্রিকেটার: রিশাদ হোসেন
৪. বর্ষসেরা ফুটবলার: হামজা চৌধুরী ও ঋতুপর্ণা চাকমা
৫. বর্ষসেরা হকি খেলোয়াড়: আমিরুল ইসলাম
৬. বর্ষসেরা আর্চার: আব্দুর রহমান আলিফ
৭. বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়: খই খই সাই মারমা
৮. বর্ষসেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়: আল আমিন জুমার
৯. উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: রিপন মন্ডল (ক্রিকেট)
১০. বর্ষসেরা কোচ: পিটার বাটলার (নারী ফুটবল)
১১. বর্ষসেরা আম্পায়ার: সেলিম লাকী (হকি)
১২. বর্ষসেরা সংগঠক: কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল (আর্চারি)
১৩. তৃণমূলের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব: আলমগীর কবীর (ক্রিকেট কোচ)
১৪. বিশেষ সম্মাননা: শাহনাজ পারভীন মালেকা (কাবাডি কোচ)
১৫. সেরা পৃষ্ঠপোষক: প্রাইম ব্যাংক পিএলসি
১৬. সক্রিয় ফেডারেশন: বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন