নাহিদ যেন বাজে ডেলিভারিও ১৫০ কিমি গতিবেগে করে, প্রত্যাশা ডোনাল্ডের

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
নাহিদ রানা ও অ্যালান ডোনাল্ড, ফাইল ফটো
নাহিদ রানা ও অ্যালান ডোনাল্ড, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‎মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনের বিকাল। ৪৬ ওভার পুরোনো বলটা ১৪৬ কিলোমিটারের বেশি গতিতে অফস্টাম্পের বেশ বাইরে পড়ে রিভার্স সুইং করে উড়িয়ে নিয়ে গেল পাকিস্তান ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্টাম্প। সেই টেস্টের শেষ বিকালে নাহিদ রানার দুর্দান্ত স্পেলটার প্রতীকী হয়ে আছে এই উইকেটটি। পেস বোলিংয়ের কঠিনতম শিল্প রিভার্স সুইংটাও এমন প্রায় দেড়শ কিলোমিটার গতিতে করা যায় সেটাই দেখালেন নাহিদ। নাহিদের গতি নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে হৈচৈ পড়ে যাওয়াটাও তাই স্বাভাবিক।

গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাহিদের এমন গুড়িয়ে দেওয়া দেখে দারুণ রোমাঞ্চিত সাউথ আফ্রিকার সাদা বিদ্যুৎ খ্যাত কিংবদন্তি পেস বোলার অ্যালান ডোনাল্ড। বাংলাদেশের সাবেক এই পেস বোলিং কোচের কাছে নাহিদ দুর্লভ এক প্রতিভার নাম। দলের সাথে না থাকলেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন নাহিদসহ পুরো বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগকে৷ কিংবদন্তি এই পেসারের চাওয়া, নাহিদ গতির সাথে যেন কোনো আপোষ না করেন। বাজে বলগুলোও যেন নাহিদ তার সর্বোচ্চ গতিতে করেন সেই পরামর্শও দিয়েছেন ডোনাল্ড।

‎ক্রিকব্লগকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড বলেন, 'নাহিদের মত বোলাররা দেখবেন উইকেট থেকে গতি বের করতে পারছে, তখন সেটা দেখাটা ভীষণ রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। কারণ তারা সরাসরি পিচ থেকেই গতি তৈরি করতে পারে। আমি চাই নাহিদ যেন ভুল বা বাজে ডেলিভারিগুলোও ১৪৮ বা ১৫০ কিলোমিটার গতিতে করে। কারণ ব্যাটাররা সেটা পছন্দ করে না। তারা এমন বোলারকে স্বাচ্ছন্দ্যে নিতে পারে না, যে একটু অনিয়ন্ত্রিত হলেও খুব দ্রুতগতির।'

‎‎‎ডোনাল্ড যোগ করেন, 'এই মুহূর্তে নাহিদের অনিশ্চয়তাই তার বড় শক্তি। হ্যাঁ, সে কিছু রান দেবে, ওয়াইড করবে, কাট ও পুল শটেও মার খাবে। কিন্তু যদি ভুল করেই, তাহলে সেই ভুলগুলো যেন ১৪৮ বা ১৫০ কিলোমিটার গতিতে করে।

‎পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে দলের জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ। কিন্তু সেই টেস্টের প্রথম ইনিংসটা মোটেও ভালো যায়নি নাহিদের। ২১ ওভার বোলিং করে ওভারপ্রতি প্রায় পাঁচ রান খরচ করে ১০৪ রান দেন তিনি। ঝুলিতে ছিল মাত্র এক উইকেট। তবে নাহিদের মত গতি নির্ভর পেসারদের এমনটা হতেই পারে বলে মনে করেন ডোনাল্ড। এক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্ট যেন নাহিদকে গতির বিষয়ে স্বাধীনতা অব্যাহত রাখে সেটিই চাওয়া তার।

‎এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড বলেন, 'পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তো নাহিদ ১০০ রান দিয়ে ফেলেছিল, এবং সেটা ঠিক আছে। আপনাকে মেনে নিতেই হবে যে, এমন একজন বোলার মাঝে মাঝে কিছু রান দেবে, কোনো কোনো দিনে খরুচে হবে।

নাহিদ যত রান দেবে, তার চেয়ে বেশি ম্যাচ আপনাকে জিতিয়ে দেবে। তাই এটা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তা করতাম না।'

নিজের ও অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ব্রেট লির ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে ডোনাল্ড বলেন, 'নাহিদ রানার ব্যাপারটা কিছুটা আমার আর ব্রেট লির মতো। আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম যে এমন কোচদের অধীনে খেলেছি, যারা আমাকে দ্রুতগতির বোলিং করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। ওর লাইন-লেন্থ ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে, যেমনটা আমরা ব্রেট লির ক্ষেত্রেও দেখেছি। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক একই ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা চলে আসবে।'

‎দূরন্ত ফর্মে থাকা নাহিদের ব্যাপারে বাংলাদেশকে বিশেষ যত্নশীল হবার পরামর্শ সাবেক পেস বোলিং কোচের। তাকে স্বাধীনভাবে খেলতে দেবার পাশাপাশি তাকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেবার ব্যাপারেও টিম ম্যানেজমেন্ট যথেষ্ঠ সাবধানী হবে এমনটাই বিশ্বাস করেন ডোনাল্ড।

‎ডোনাল্ড বলেন, 'বচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট কীভাবে এই নাহিদকে সামলায়। আর সে এমন ধরনের বোলার নয়, যাকে আলাদা করে বলে দিতে হবে যে তোমার লাইন-লেন্থ ঠিক করতে হবে। আর আমি নিশ্চিত, নাহিদ রানাকে কীভাবে সামলাতে হবে, সেটা দলের সবাই জানে। হয়তো প্রয়োজন হলে তাকে বিশ্রামও দেওয়া হবে, কারণ সে সব ফরম্যাটেই খেলছে—যেটা দেখতে দারুণ লাগে।'

ডোনাল্ড যোগ করেন, 'আমি শেষ পর্যন্ত যেটা দেখতে চাই না, সেটা হলো, বাংলাদেশ ক্রিকেট নাহিদ রানাকে খুবই ভালোভাবে আগলে রাখুক। কারণ সে একজন ম্যাচ উইনার। তার অনেকদিন খেলতে হবে।'

আরো পড়ুন: