আমার বাবা নেই, তাই আম্মুকেই প্রথম ফোন করেছিলাম: সাকলাইন

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট
ক্রিকফ্রেঞ্জি করেসপন্ডেন্ট
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) স্কোয়াডে থাকলেও নর্থ জোনের একাদশে নেই আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সিলেটের দুই ভেন্যুতে ম্যাচ খেলায় ব্যস্ত ক্রিকেটাররা। একাদশে না থাকায় ডাগ আউটে অবসর সময় পার করতে হচ্ছিল তাকে। ডাগ আউটে বসে না থেকে সময়টা কাজে লাগাতে চাইলেন তিনি। যেমন কথা তেমন কাজ। ম্যাচ চলাকালীনই ব্যাট-বল নিয়ে চলে গেছেন সিলেট স্টেডিয়ামের নেটে। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এত বেশি ছক্কা মারার তাড়া নেই।

তবুও লাল বলে একের পর এক ছক্কার প্রচেষ্টা চালালেন সাকলাইন। যেন একটু পরেই ব্যাটিংয়ে নেমে বড় কোন রান তাড়া করতে হবে। বলটা লাল হলেও সাকলাইনের অনুশীলন কাছ থেকে দেখলে আন্দাজ করার কথা কেন এমন পাওয়ার হিটিং অনুশীলন করছেন। বিসিএলের এক রাউন্ড শেষেই মাঠে গড়াবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আগামী আসর। ৫০ ওভারের টুর্নামেন্টের আগে সাকলাইনকে খেলতে হবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচও।

২৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার যখন সিলেটে লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত তখনই ডাক পড়েছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে। ঘরোয়া ক্রিকেট ও সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় আনন্দের শেষ নেই। সাকলাইন তাই সবার আগে শুকরিয়া জানালেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমার নামটা দেখে খুব খুশি হয়েছি। আল্লাহ পাক আমাকে একটা সুযোগ দিয়েছেন।’

প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবরটা সাকলাইনকে ফোন করে জানিয়েছে নির্বাচক প্যানেল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দল ঘোষণার পর ফোন করেছিলেন লিটন দাসও। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক দিয়েছেন দিক নির্দেশনাও। সাকলাইন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাকে ক্যাপ্টেন দাদা (লিটন দাস) ফোন করেছিলেন। উনার সাথে কথা হয়েছে। নির্বাচকও ফোন করেছিলেন উনার সাথে কথা হয়েছে।’

সাকলাইন অবশ্য জাতীয় দলে ডাক পেয়ে প্রথম কলটা দিয়েছে তার মাকে। বছর কয়েক আগে মারা গেছে সাকলাইনের বাবা। তবে মায়ের সঙ্গে ভাইয়েরা মিলে ডানহাতি পেসারকে এগিয়ে নিয়েছেন। নিজের সবচেয়ে খুশির খবরটা তাই মাকে জানাতে ভুল করেননি তিনি। সাকলাইন বলেন, ‘আম্মুর সাথে(কথা হয়েছে)। যেহেতু আমার বাবা নেই, তাই আম্মুকেই প্রথম ফোন করেছিলাম। আম্মুর সাথে কথা হয়েছে। তারপরে ঢাকায় আমি যার বাসায় থাকি উনাদের সাথে কথা হয়েছে।’

স্বাভাবিকভাবে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ এলে রোমাঞ্চটা একটু বেশিই কাজ করে। তবে সাকলাইনকে সতর্ক করে তার মা জানিয়েছেন, তাকে লম্বা পথ যেতে হবে। মায়ের সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আম্মু একটাই কথা বলছেন যে বেশি এক্সাইটেড যাতে না থাকি। অনেক লম্বা (পথ) যেতে হবে। আর সুযোগ যেহেতু এসেছে, কাজে লাগানোর চেষ্টা করো। বাকিটা আল্লাহ পাকের ইচ্ছা।’

সাকলাইনের জাতীয় দলে আসার গল্পটা একটু ভিন্ন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের প্রথাগত পথ ধরে উঠে আসেননি তিনি। একটা সময় টেপ ক্রিকেট খেলতেন ২৮ বছর বয়সী এই পেসার। পাশাপাশি অবশ্য ক্রিকেট বলেও খেলার চেষ্টা করেছেন। টেপ টেনিসে খেপ খেলা সাকলাইনের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে পরিচিত এক বড় ভাই তাকে ক্রিকেট বলের চেষ্টার পরামর্শ দেন। সেখান থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগ পেরিয়ে ডিপিএলে সুযোগ করে নিয়েছেন।

ঘরোয়া ক্রিকেট ভালো করে সুযোগ পেলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলেও। গত বছর খেলেছেন রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপেও। যেখানে বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংয়েও আলো ছড়ান। চলতি বছর হওয়া বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়েও পারফর্ম করেছেন। টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে জাতীয় দলে জায়গায় করে নেওয়া সাকলাইনের জীবনের গল্পটা অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ টেপ টেনিস ক্রিকেট ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তাকে এভাবে বড় হতে দেখা বাকি টেপ টেনিস ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সাকলাইন বলেন, ‘এখন এখানে বিষয়টা হচ্ছে যে কে কীভাবে নিজের পেশাটাকে নেয়। আমি টেপ টেনিস আগে খেলতাম, তার পাশাপাশি আমি এই (ক্রিকেট বলে) খেলাটা চালিয়ে গিয়েছি। অনেকে আছে যে পরিবারের চাপ, অনেকে চাপের কারণে হয়তোবা দুইটা একসাথে চালিয়ে যেতে পারে না। এখন উনাদের (টেপ টেনিস ক্রিকেটার) ওপর নির্ভর করবে কে কীভাবে নিজের পেশাটাকে নিয়েছে।’

নিজের প্রথম সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগাতে চান সাকলাইন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই চায় নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে। আমার ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম না। যেহেতু সুযোগ পেয়েছি চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ আমি আমার সেরাটা দেওয়ার। আর চেষ্টা করব যাতে টিম জিতে এবং আমি ইমপ্যাক্টফুল অবদান রাখতে পারি।’

আরো পড়ুন: