বাড়ানো হলো নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ম্যাচের ফি, বেড়েছে বেতনও

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ১৪শ কোটি টাকার বোর্ড বলে ব্যঙ্গ করা হয়ে থাকে। তবে যাদের বদৌলতে দেশের ক্রিকেটের এত টাকা তারা প্রায়শই আক্ষেপে পুড়েছেন। বছরান্তর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বেতন, ম্যাচ ফি বাড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটারা খানিকটা আড়ালে থেকে গেছেন। তবে বিসিবির দায়িত্ব নিয়েই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা দেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম ইকবাল। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।

তামিমের দেওয়া তথ্য অনুসারে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা মেয়দের একটা সময় ম্যাচ ফি ছিল ১ হাজার টাকা। পরবর্তীতে সেটাকে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। যা নিয়ে ক্রিকেটারদের দিন চলে না বলে অভিযোগ আছে। সেখানে একটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন তামিমরা। ৮ এপ্রিল বোর্ড সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি পাবেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।

এ ছাড়া ৫০ ওভারের ম্যাচের ১৫ হাজার ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন বাংলাদেশের মেয়েরা। তামিম অবশ্য স্বীকার করছেন এটাও তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আজকে কয়েকটা জিনিস দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমাদের নারী ক্রিকেটার যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন তাদের ম্যাচ ফি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা আছে? আমি জানি না আপনারা জানেন কীনা এটা একটা সময় ১ হাজার টাকা ছিল। তারপর এটাকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় এটা কোনভাবেই ঠিক না।

‘উনারা ২০ ওভারের ম্যাচ, ৫০ ওভারের ম্যাচ ও ২-৩ দিনের ম্যাচ খেলেন। আজকে আমরা যেটা অনুমোদন দিয়েছি আমি বলব না এটা খুব ভালো। কিন্তু এটা তুলনামূলক ভালো কারণ সবকিছু বাড়ানোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এখন থেকে তারা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১০ হাজার টাকা, ওয়ানডের জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং লঙ্গার ভার্সনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন। যেটা আগে হয়তবা ৮ হাজার বা এরকম কিছু একটা ছিল।’

বাংলাদেশ নারী দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন ১৫ ক্রিকেটার। সেই চুক্তিতে থাকা ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারা ১ লাখ ৬০ হাজার ও সর্বনিম্ন ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা সুমাইয়া আক্তাররা ৮০ হাজার টাকা বেতন পান। কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে প্রায় ৩০-৩৫ জন ক্রিকেটারকে জাতীয় চুক্তিতে রাখা হয়েছে। তাদের মাসিক বেতন ৩০ থেকে ৪০ হাজার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবির এডহক কমিটি।

তামিম বলেন, ‘উনাদের (নারী) ঘরোয়া ক্রিকেটারদের চুক্তি যেটা আছে ওইটাতে ৩০-৩৫ জন ক্রিকেটার আছেন। ওইখানে তাদের ৩০ হাজার টাকা করে মাসিক স্যালারি ছিল। এটাকে ৪০ হাজার করে দেওয়া হয়েছে। এটাতে জটিলতা ছিল কারণ জাতীয় দলের চুক্তিতে সবচেয়ে কম বেতনের ক্যাটাগরি হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা। আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে বেতন বাড়ালেও ওই গ্যাপটা তো রাখতে হবে। এই কারণে আমরা যতটুকু পেরেছি ওতটুকু বাড়িয়েছি।’

মেয়েদের মতো ছেলেদের ঘরোয়া ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি ও বেতন বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা ৩৫ হাজারের পরিবর্তে ৬৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাবেন। ‘বি’ ক্যাটাগরি ৫০ হাজার ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা পাবেন ৪০ হাজার করে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘পুরুষ ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমি যদি ভুল না করে থাকি গত প্রায় ৩-৪ বছর ধরে তাদের বেতন বাড়েনি। এতদিন পুরুষ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৩৫ হাজার, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩০ হাজার ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার টাকা ছিল। আমার কাছে মনে হয় এটা অনেক কম। এতো কষ্ট করে তারা সবাই ক্রিকেট খেলে। ক্রিকেটের কারণেই আজকে আমাদের ক্রিকেট বোর্ড, এই ক্রিকেট সবকিছু। নূন্যতম সম্মান বা যে কষ্টটা করে তাদেরকে নূন্যতম জিনিসটা আমাদের করে দেওয়া উচিত।’

‘আমরা আজকে যেটা অনুমোদন দিয়েছি এখন থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরি ৬৫ হাজার, ‘বি’ ক্যাটাগরি ৫০ হাজার ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা পাবে। এখন এপ্রিল, এবছরের চুক্তির চার মাস হয়ে গেছে কিন্তু তারা এখনো স্যালারি পায়নি। খুব সম্ভবত তাদের চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি দেখে। জিনিসটা আজকে অনুমোদন দিয়েছি, ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। যখনই বেতন পাবে এই হিসেবে পাবে। পাশাপাশি তাদের ম্যাচ ফি যেটা ৭০ হাজার ছিল সেটা ১ লাখ করে দেওয়া হয়েছে।’

আরো পড়ুন: