টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে হায়দরাবাদে ৫০ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন হোপ। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা ও ৪টি চার। এই সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৪ রানের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ফেরে সমতা। এর আগে ওয়ানডে সিরিজেও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন হোপ। দুই সংস্করণ মিলিয়ে করেছেন মোট ৪ সেঞ্চুরি।
জিওস্টারকে নায়ার বলেন, 'ভারতের মাটিতে কোনো সফরকারী ব্যাটারকে এমন আধিপত্য বিস্তার করতে সর্বশেষ মনে পড়ে ২০০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের সফরের কথা। ম্যাথু হেইডেন আমাদের বোলারদের তুলোধুনো করতেন, শাই হোপও এখন তেমন কিছু করছে। শুধু রান করার জন্য নয়, যেভাবে রানগুলো করছে, সেটিও অসাধারণ। তাকে শুধু পাওয়ার হিটার কিংবা টাচ প্লেয়ার—কোনোটাই বলা যায় না। সে দারুণ ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে। বোলারের গতি কাজে লাগাতে পারে, আবার প্রয়োজন হলে নিজেই শক্তি তৈরি করে বড় ছক্কা মারতে পারে।'
চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোপ সেঞ্চুরি করেছেন দুবার, যা তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি শতক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই সংস্করণে তিনটি সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন তিনি। ভারত সফরে তিনবার অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছেন হোপ।
হোপের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় দিক হিসেবে নায়ার দেখছেন পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতাকে। ভারতের পেস, স্পিন ও মিডিয়াম পেস সব ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। নায়ারের মতে, গতি ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার দক্ষতাই তাঁকে আলাদা করেছে।
নায়ার বলেন, 'মায়াঙ্ক যাদব ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করেও তাকে সমস্যায় ফেলতে পারেনি। কুলদীপ যাদব ও অক্ষর প্যাটেলের বৈচিত্র্যও সে দারুণভাবে সামলেছে। এই সফরে প্রায় প্রতিটি সংস্করণেই সে ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে শাসন করেছে। ২০০ স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরি করাই বলে দেয়, শাই হোপ কী করতে পারে।'
ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের নির্ধারক পঞ্চম ম্যাচ হওয়ার কথা ১৯ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। সিরিজ জিততে হোপের ব্যাটিং ও নেতৃত্বের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।