তিরুবনন্তপুরমে ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন কোহলি। ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কা। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি, এই কীর্তি গড়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকারের পাশে। একই ম্যাচে নিজের ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও পেয়েছেন কোহলি। তার ইনিংস ও শুভমান গিলের ১১০ রানের সুবাদে ২৯৬ রানের লক্ষ্য ৪১.৪ ওভারেই পেরিয়ে যায় ভারত, জয় আসে ৮ উইকেটে।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের বদলে যাওয়া ব্যাটিং নিয়ে কথা বলেন কোহলি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে নিজেকে আরও এক ধাপ ওপরে নেওয়ার চ্যালেঞ্জই তাকে নতুনভাবে খেলতে অনুপ্রাণিত করছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আমাকে নিজের খেলাটা আরও বাড়াতে এবং এক-দুই ধাপ ওপরে উঠতে বলা হয়েছিল। এটা নিয়ে কাজ করাটা আমার জন্য রোমাঞ্চকর ছিল।'
'ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারাটা আমাকে আনন্দ দেয়। এতে ভারতের হয়ে কিংবা আইপিএলে যেখানেই খেলি না কেন, অনেক সাহায্য হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এটা আমাকে মুক্ত মনে খেলতে সাহায্য করছে এবং আমার মনে হয় এটাই এখন আমার জন্য কাজ করছে।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন কোহলি। ইনিংসের প্রথম পাঁচ বলের মধ্যেই ছক্কা মেরে নিজের পরিকল্পনার আভাস দেন। শেষ পর্যন্ত ৯টি ছক্কা মেরে ওয়ানডেতে এক ইনিংসে নিজের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন। তবে এই আগ্রাসনকে বেপরোয়া করতে চান না তিনি।
নিজের নতুন ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে কোহলি বলেন, 'আমি নিজেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যেহেতু আমি পারি, তাই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। তবে বেপরোয়া হব না। দুটির মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য আছে। একজন অভিজ্ঞ পেশাদার হিসেবে আমার সেই ভারসাম্যটা বজায় রেখে খেলতে পারা উচিত, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলেও দলকে জেতাতে পারি।'
কোহলির এই পরিবর্তনের পেছনে শারীরিক সক্ষমতাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মতে, মুক্ত মনে খেলতে হলে শরীরকে ফিট রাখা জরুরি। তিনি জানান, শারীরিকভাবে নিজেকে ঠিক রাখার পরই মাঠে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো মানসিক অবস্থায় যেতে পারেন। কোহলির ভাষায়, 'মুক্ত মন নিয়ে খেলতে হলে শরীরও ফিট থাকতে হয়। আমি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, এরপর যেভাবে খেলতে চাই সেভাবে ম্যাচটাকে কল্পনা করতে পারি। এতে মাঠে গিয়ে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পাই।'
ওয়ানডেতে এখন তার ব্যাটিংয়ের ধরনও আগের চেয়ে বদলেছে। আগে দীর্ঘ ইনিংস খেলার জন্য ঝুঁকি কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল কোহলির বড় বৈশিষ্ট্য। এখন সেট হওয়ার পর প্রতিটি বল থেকে যতটা সম্ভব রান নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। ২০২৬ সালে ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৫২৩ রান করেছেন কোহলি এবং তার স্ট্রাইক রেট ১১৬.৭৪। অর্থাৎ অভিজ্ঞতার সঙ্গে আগ্রাসন যোগ করে নতুন এক ব্যাটিং সংস্করণ তৈরি করার চেষ্টা করছেন তিনি।
১৫ হাজার রানের মাইলফলক এবং ৫৫তম সেঞ্চুরি অবশ্য কোহলির কাছে আলাদা কোনো লক্ষ্য ছিল না। বরং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। নিজের দীর্ঘ যাত্রার কথা স্মরণ করে কোহলি বলেন, ' আমার মনোযোগ কখনোই এসব মাইলফলকের দিকে ছিল না। পরিস্থিতি বুঝে দলের জন্য কাজটা করে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। অর্জনগুলো এর পথেই আসে। এত দিন খেলতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। মাথা নিচু রেখে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চাই এবং আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে চাই।'