ইংল্যান্ডের দুই পেসারের এই পারফরম্যান্সে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক রেকর্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে একই ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই পেসারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। আর ইংল্যান্ডের ইতিহাসে একই ইনিংসে দুই পেসারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৮ সালে।
টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রুট। মেঘলা আকাশ ও সহায়ক কন্ডিশনকে কাজে লাগাতেই এমন সিদ্ধান্ত। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন রবিনসন। আজান আওয়াইসকে এলবিডব্লিউ করে শুরুতেই পাকিস্তানকে ধাক্কা দেন তিনি। এরপর শান মাসউদকেও ফিরিয়ে দেন এই পেসার।
মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া পাকিস্তানকে এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ৯১ রানের জুটি পাকিস্তানকে বড় বিপদ থেকে বের করে আনে। শফিক ছিলেন বেশি সাবলীল। একের পর এক দারুণ ড্রাইভে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করছিলেন তিনি। ইমামও ধীরে ধীরে নিজের ইনিংস গুছিয়ে নেন।
তবে শতরানের আগে ভেঙে যায় সেই জুটি। ৪২ রানে ইমামকে ফেরান টাং। এরপর মাত্র ৫ রান করে রবিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হন সাউদ শাকিল। শফিক অবশ্য নিজের ফিফটি পূরণ করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ৬১ রানে রবিনসনের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতেই পাকিস্তানের ইনিংসে ধস নামে।
এরপর দ্রুতই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। অধিনায়কত্বের দায়িত্বে থাকা সালমান আঘা ২১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও টংয়ের জোড়া আঘাতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৫০ রানে ৭ উইকেটে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭৪ রানের মধ্যে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
রবিনসন ৪৫ রানে ৫ উইকেট এবং টাং ৫২ রানে ৫ উইকেট নেন। পাকিস্তানের ইনিংসে আর কোনো ব্যাটারই প্রতিরোধ গড়তে পারেরননি। বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়া সালমানের ২১ রানই শফিকের ৬১ রানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
জবাবে ইংল্যান্ডও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে। মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলি পরপর দুই ওভারে বেন ডাকেট ও এমিলিও গেকে ফিরিয়ে ৪৮ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। ডাকেট করেন ১৫, আর গে ৩১ বলে ৩৩ রান করেন।
এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি রুট ও জর্ডান কক্স। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬৪ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তারা। রুট ৩৭ এবং কক্স ২৩ রানে অপরাজিত আছেন। ফলে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের চেয়ে মাত্র ৫৯ রানে পিছিয়ে থেকে প্রথম দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড।