সিপিএল জেতার পেছনে ধোনিকে কৃতিত্ব দিলেন মঈন

সিপিএল
মঈন আলী ও  মহেন্দ্র সিং ধোনি, ফাইল ছবি
মঈন আলী ও মহেন্দ্র সিং ধোনি, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের অধিনায়কত্বে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন মঈন আলী। ২০ সেপ্টেম্বর জ্যামাইকা কিংসম্যানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস। আর এই সাফল্যের পেছনে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বড় কৃতিত্ব দিয়েছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার।

ফাইনালে জ্যামাইকার ১৭০ রান ১৬.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় ফ্যালকনস। আমির জাঙ্গু ৫৭ ও হাসান নওয়াজ ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন। এর আগে সুফিয়ান মুকিম ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জ্যামাইকাকে বড় সংগ্রহ থেকে আটকে দেন। শাদাব খান ১৩২ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টসেরা হন।

ফ্যালকনসকে পুরো টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মঈন। ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চেন্নাইয়ের হয়ে খেলার সময় ধোনির অধীনে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবার নিজের অধিনায়কত্বে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ২০২১ ও ২০২৩ সালে চেন্নাইয়ের হয়ে আইপিএল শিরোপাও জিতেছিলেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। ধোনির নেতৃত্ব নিয়ে মঈন এর আগেও বলেছেন, চেন্নাইয়ে থেকে তিনি অধিনায়কত্ব ও ক্রিকেট দুই ক্ষেত্রেই অনেক কিছু শিখেছেন।

সুপার ওভার পডকাস্টে মঈন জানান, ধোনির কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল দলের সবাইকে একই লক্ষ্যে একত্র করা। মঈন বলেন, 'ভালো কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে সবাইকে একই লক্ষ্যে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমি ধোনির কাছ থেকে শিখেছি। চেন্নাইয়ে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের দারুণ সমন্বয় ছিল। বেশি মিটিংও হতো না। ধোনি বলতেন, ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা অনুশীলনেই হয়ে যাওয়া উচিত।'

অধিনায়কত্বে বোলার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ধোনির একটি ভাবনা মঈনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত ছয়জন বোলিং বিকল্প থাকায় কাকে বল করাবেন, তার চেয়ে কাকে বল করাবেন না সেটা ঠিক করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। মঈন বলেন, 'টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত ছয়জন বোলার থাকে। তাই কাকে বল করাব, শুধু সেটা ভাবার বিষয় নয়; বরং কাকে বল করাব না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাবনাটাই অধিনায়কত্ব নিয়ে আমার পুরো দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। '

চেন্নাইয়ে ধোনির অধীনে পাওয়া এই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগই এবার দেখা গেছে ফ্যালকনসের শিরোপা জয়ে। দলীয় সমন্বয় ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি ফাইনালেও চাপ সামলে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে তারা। জ্যামাইকার হয়ে ৫৮ বলে ১১৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি মাজ সাদাকাত। বিপরীতে ফ্যালকনসের জাঙ্গু-হাসান জুটি দলকে সহজ জয় এনে দেয়।

ফ্যালকনসের এটি সিপিএলে প্রথম শিরোপা, তৃতীয় মৌসুমেই এসেছে এই সাফল্য। দলের সঙ্গে পুরো আসরে মেন্টর হিসেবে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি কার্টলি অ্যামব্রোস। আর মঈনের নেতৃত্বে পাওয়া এই ট্রফিতে ধোনির কাছ থেকে শেখা দল পরিচালনার সেই দর্শনেরও ছাপ দেখছেন তিনি নিজেই।

আরো পড়ুন: