এমএলসিতে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল লস অ্যাঞ্জেলেস

মেজর লিগ ক্রিকেট
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মেজর লিগ ক্রিকেটের শেষ চারে উঠে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স। শনিবার ওকল্যান্ড কলোসিয়ামে ওয়াশিংটন ফ্রিডমকে এক রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে দলটি। আগের তিন আসরে যেখানে তাদের মোট জয় ছিল মাত্র পাঁচটি, সেখানে এবার অষ্টম জয়ে শিরোপা নিশ্চিত করল তারা।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লস অ্যাঞ্জেলেস ১৬৪ রান তোলে। উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু এনে দেন আন্দ্রে ফ্লেচার। তিনি ২৭ বলে ৪৭ রান করেন। কলিন মুনরোও ২৯ বলে ৪০ রান যোগ করেন। শেষ দিকে ম্যাথু ট্রম্পের কার্যকর ইনিংসে দলটি দেড় শতাধিক রানের সংগ্রহ গড়ে।

ওয়াশিংটনের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন নিখিল চৌধুরী। নিজের প্রথম ওভারেই তিনি ফ্লেচারকে ফিরিয়ে দেন। একই ওভারে কোনো রান না করেই আন্দ্রে রাসেলকে বিদায় করেন তিনি। পরে রাচিন রবীন্দ্র মনরো ও সুনীল নারিনকে ফিরিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসকে চাপে ফেলেন। তবে ট্রম্পের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলটি লড়াই করার মতো পুঁজি পায়।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়াশিংটন। সুনীল নারিন নতুন বলে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে শক্ত ভিত গড়ে দেন। তিনি মিচেল ওয়েন, স্টিভেন স্মিথ ও রাচিন রবীন্দ্রকে বিদায় করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। চার ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন এই অভিজ্ঞ স্পিনার।

এরপর আন্দ্রিস গাউস ও নিখিল চৌধুরী চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়ে দলের আশা জাগান। তবে জেসন হোল্ডার সেই জুটি ভেঙে দেন। নিখিলকে আউট করার মধ্য দিয়ে বিশ ওভারের স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের চারশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে বেন ডোয়ারশুইস ও গাউসকেও ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হোল্ডার।

শেষ দুই ওভারে ম্যাচে নতুন রোমাঞ্চ যোগ করেন ওবাস পিনার। তিনি নিয়মিত সীমানা ছাড়া শট খেলতে থাকেন এবং শেষ ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে নিজের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন। সেই সময় জয়ের জন্য ওয়াশিংটনের দরকার ছিল শেষ ওভারে ১৪ রান।

তবে শেষ ওভারে বল হাতে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখান শ্যাডলি ভ্যান শালকভিক। প্রথম বলে ছক্কা হজম করার পরই তিনি পিনারকে ফিরিয়ে দেন। পরের বলেই ইয়ান হল্যান্ড আউট হন। এরপর লকি ফার্গুসন একটি চার মারলেও শেষ দুই বলে তিনি কেবল এক রান করে নিতে পারেন। ফলে এক রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস।

শেষ বলে লাহিরু মিলান্থা দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টায় রানআউট হন। সেই রান হলে ম্যাচ সমতায় শেষ হয়ে সুপার ওভারে গড়াতে পারত লড়াই। কিন্তু তা আর হয়নি।

আরো পড়ুন: