বিপিএল নিলামের জন্য স্থানীয় ১৪৭ এবং বিদেশি ২৬০ জন ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। ২০২৬ বিপিএলের জন্য বিভিন্ন শ্রেণিতে খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্যসহ নিলামের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। যা মিডিয়া এবং দলগুলোকে পাঠানো হয়েছে।
কবে, কখন এবং কোথায়—
১৭ নভেম্বর বিপিএল হওয়ার কথা থাকলেও সেটা কয়েক দফা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আগামী ৩০ নভেম্বর রাজধানীর রেডিসন ব্লু পাঁচ তারকা হোটেলে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার দুপুর তিনটা নাগাদ শুরু হবে বিপিএল নিলাম। যেখানে নিলাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন ওরমান রাফে নিজাম।
নিলামে কত ক্রিকেটার—
বিপিএলের আগামী আসরের জন্য ১৪৭ জন দেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। তবে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে ২৬০ জন বিদেশি ক্রিকেটারকে।
বিপিএল নিলামে কারা নেই—
ফিক্সিংয়ের অভিযুক্ত সন্দেহে বিপিএলের আগামী আসরের নিলামে রাখা হয়নি এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদ উজ জামান ও শফিউল ইসলামকে। এ ছাড়া আল আমিন হোসেন ও শামসুর রহমান শুভ নিজেদের নাম সরিয়েছেন। আল আমিন ছুটিতে থাকলেও শুভ নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন তরুণদের জায়গা করে দিতে।
সরাসরি সাইনিং—
বিপিএল নিলামের আগে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দুজন করে দেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করার সুযোগ পেয়েছে। ঢাকা ক্যাপিটালস, রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, সিলেট টাইটান্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেস দুজন করে দেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এ ছাড়া অন্তত একজন এবং সর্বোচ্চ দুজন বিদেশি ক্রিকেটার নেয়ারও সুযোগ পাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিদেশি ক্রিকেটার দলেও নিয়েছে।
নিলামের আগে কোন দলে কোন ক্রিকেটার—
ঢাকা ক্যাপিটালস— তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান, অ্যালেক্স হেলস এবং উসমান খান।
রংপুর রাইডার্স— নুুরুল হাসান সোহান, মুস্তাফিজুর রহমান, খাওয়াজা নাফে ও সুফিয়ান মুকিম।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস— সৌম্য সরকার, হাসান মাহমুদ, জনসন চার্লস এবং কুশল মেন্ডিস।
সিলেট টাইটান্স— মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ আমির, সাইম আইয়ুব।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স— তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ নাওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান।
চট্টগ্রাম রয়্যালস— শেখ মেহেদী, তানভির ইসলাম এবং আবরার আহমেদ।
দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য—
১৪৭ জন দেশি ক্রিকেটারকে মোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। যেখানে ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ‘বি’ ৩৫ লাখ টাকা, ‘সি’ ২৫ লাখ টাকা, ‘ডি’ ১৮ লাখ টাকা, ‘ই’ ১৪ লাখ টাকা এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারের ভিত্তিমূল্য ১১ লাখ টাকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ‘বি’ ২৫ হাজার ডলার, ‘সি’ ২০ হাজার ডলার, ‘ডি’ ১৫ হাজার ডলার এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারের ভিত্তিমূল্য ১০ হাজার ডলার।
নিলামে কীভাবে ক্রিকেটারদের দাম বাড়বে—
বিপিএলে নিলামে কোন ক্যাটাগরিতে কোন কত টাকা করে বাড়বে সেটা ঠিক করে দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে যারা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রতি ডাকে ৫ লাখ টাকা করে বাড়বে। এ ছাড়া ‘বি’ ৩ লাখ টাকা, ‘সি’ ১ লাখ টাকা, ‘ডি’ ৫০ হাজার টাকা, ‘ই’ ৩০ হাজার টাকা এবং এফ ক্যাটাগরিতে বাড়বে ২০ হাজার টাকা করে। বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুসারে যথাক্রমে প্রতি ডাকে বাড়বে ৫ হাজার ডলার, ৩ হাজার ডলার, ২ হাজার ডলার, ১ হাজার ৫০০ ডলার এবং ১ হাজার ডলার।
কতজনের স্কোয়াড, কোন ক্যাটাগরি থেকে কতজন কিনতে হবে—
বিপিএল নিলাম থেকে সর্বনিম্ন ১২ জন এবং সর্বোচ্চ ১৪ জন স্থানীয় ক্রিকেটারকে কিনতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। যেখানে ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরি মিলে অন্তত ২ জন ক্রিকেটারকে দলে নিতে হবে। ‘সি’ এবং ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে অন্তত ৬ জন ও ‘ই’ এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরি মিলে অন্তত ৪ জনকে দলে নিতে হবে। একটি দল সর্বোচ্চ ১৬ জন দেশি ক্রিকেটারকে কিনতে পারবে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্কোয়াড হবে ২২ সদস্যের।
দলগুলোর বাজেট কত—
৩০ নভেম্বর হতে যাওয়া নিলামে অন্তত ১২ জন দেশি ক্রিকেটারকে কিনতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ করতে পারবে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। নিলামের আগে সরাসরি সাইনিং করা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এখানে যুক্ত হবে না। নিলাম থেকে অবশ্যই দুজন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। সরাসরি চুক্তি ও নিলামের বিদেশি ক্রিকেটারের জন্য সাড়ে ৩ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করতে পারবে দলগুলো।
পারিশ্রমিক পরিশোধের নিয়ম—
বিপিএলে খেলা ক্রিকেটারদের টাকা কীভাবে বণ্টন করতে হবে সেটাও বলে দিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। নিয়ম অনুযায়ী, মোট তিনটি ধাপে পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। যেখানে প্রথমে ২৫ শতাংশ সাইনিং ফি দিতে হবে। পরবর্তীতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে আরও ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক দিতে হবে। টুর্নামেন্ট শেষের ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক দিতে হবে।