অঙ্কন-মেহেরব-সৈকতের অর্ধশতকে আবাহনীর প্রথম জয়

ডিপিএল
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ফাইল ফটো
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আসরের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে বেশ চাপেই ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন আর এস এম মেহেরব হোসেনের অর্ধশতকে বড় রানের ভিত পেয়ে যায় তারা। এরপর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝড়ো ফিফটিতে ২৮৩ রানের বড় স্কোর পায় আবাহনী। জবাব দিতে নেমে ভালো সূচনা পেলেও রিজার্ভ ডেতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুতই গুড়িয়ে যায় ব্রাদার্সের ইনিংস। ১৬৬ রানের ব্যবধানে টুর্নামেন্টের প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ২৫ রান তোলেন অধিনায়ক জাহিদুজ্জামান ও শাহরিয়ার কমল। চতুর্থ ওভারে রোহান উদ দৌলা বর্ষণের বলে লেগ বিফোর হয়ে আউট হন কমল। দলীয় ৫৮ রানে আঘাত হানেন অলরাউন্ডার সৌম্য সরকার।১২ ওভারে ব্রাদার্স ১ উইকেটে ৪৯ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টির ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে রিজার্ভ ডেতে গড়ায় খেলা।

‎রিজার্ভ ডে'র খেলা শুরু হবার পরপরই ১৮ রান করা আদিল বিন সিদ্দিককে আউট করেন অলরাউন্ডার সৌম্য সরকার। দলীয় ৭৯ রানে ব্রাদার্স অধিনায়ক জাহিদুজ্জামানকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন সৌম্য। দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন ব্রাদার্স অধিনায়ক।

‎অধিনায়ক আউট হবার পর আর বেশিদূর এগোয়নি ব্রাদার্সের ইনিংস। মিডল অর্ডারে ফয়সাল আহমেদ রায়হানের (১৪) পর আর কেউই দুই অন্ক ছুঁতে পারেননি। ৩৭ রানে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। আবাহনীর হয়ে সৈয়দ খালেদ আহমেদ, বর্ষণ, রাকিবুল ইসলাম, সৌম্য ও মাহফুজুর রাব্বি সকলেই দুটি করে উইকেয় নেন। ১৬৬ রানের বড় জয়ে টুর্নামেন্টের পয়েন্টের খাতা খোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

‎এর আগে পিকেএসপির দুই নম্বর মাঠে টস জিতে আবাহনীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। চতুর্থ ওভারে বাঁহাতি স্পিনার শরিফুল ইসলামের বলে লেগ বিফোর হয়ে আউট হন সৌম্য। আট বলে দুই রান করেন তিনি। এরপর আরেক ওপেনার জিশান আলমকে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়েন তিন নম্বরে নামা অঙ্কন। দলীয় ৫৩ রানে মইনুল ইসলামের বলে শাহরিয়ার কমলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জিশান। ৫৩ বলে ছয়টি চারে ৩১ রান করেন তিনি।

‎পরের ওভারেই রানের খাতা খোলার আগে জাকের আলী অনিক রান আউট হলে ৫৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এরপর মেহেরবকে নিয়ে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন অঙ্কন। দলীয় ১৮১ রানে দারুণ খেলতে থাকা মেহেরবকে ফিরিয়ে ব্রাদার্সকে ব্রেকথ্রু এনে দেন ফয়সাল আহমেদ রায়হান। ৭৬ বলে পাঁচ ছক্কা ও চার‍টি চারে ৭৭ রান করেন মেহেরব। এরপর পঞ্চম উইকেটে অধিকার সৈকতকে নিয়ে ৫৮ রানের জুটি গড়েন অঙ্কন।

‎লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে নিজের ২৯তম হাফ সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন অঙ্কন। কিন্তু ১১৪ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে ৮৩ রানের ইনিংস খেলে স্পিনার শরিফুলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা সৈকত এই ম্যাচেও ছিলেন দুর্দান্ত। ছয় নম্বরে নেমে পরিস্থিতির চাহিদা মিটিয়ে ৬২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন এই অলরাউন্ডার। ৪০ বলের এই ইনিংসে ছিল সমান চারটি করে চার ও ছক্কা।

‎শেষদিকে অলরাউন্ডার মাহফুজুর রাব্বি পাঁচ বলে ১০ রানের ইনিংস খেললে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ছয় উইকেটে ২৮৩ রানে থামে আবাহনী। ব্রাদার্সের হয়ে শরিফুল দুইটি এবং শফিকুল ইসলাম, মইনুল ও ফয়সাল একটি করে উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: