বিজয়-আফিফ-নাইমসহ এনসিএলে দুই ম্যাচে ৮ অর্ধশতক

এনসিএল
এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ ও আফিফ হোসেন,  ফাইল ছবি
এনামুল হক বিজয়, নাইম শেখ ও আফিফ হোসেন, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মাহফিজুল ইসলাম রবিনের সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের পাটাতন পেয়ে গিয়েছিল ময়মনসিংহ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে শুরুতেই ৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। পরে শুভাগত হোম ও রাকিবুল হাসানের ফিফটিতে ৩৮৭ রানের সংগ্রহ পায় ময়মনসিংহ। জবাব দিতে নেমে নাইম শেখের ফিফটিতে ৩ উইকেটে ১২০ রান তুলে দিন শেষ করেছে ঢাকা। আরেক ম্যাচে শাহাদাত হোসেন দিপু, ইরফান শুক্কুর ও শামীম পাটোয়ারীর ফিফটি প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানের লিড নিয়েছিল চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ফিফটি পেলেও ১৬১ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে খুলনা।

৪ উইকেটে ২২৬ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ময়মনসিংহ। দিনের প্রথম তিন ওভারে দুই সেট ব্যাটারসহ ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ময়মনসিংহ। সুমন খানের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৪৪ রান করা রিজান হোসেন। পরের ওভারেই ফিরে যান আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান মাহফিজুল। আরিফ আহমেদের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে আউট হবার আগে ২৪৩ বলে ১ ছক্কা ও ৯ চারে ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন মাহফিজুল।

পরের ওভারে আবু হায়দার রনিকে বোল্ড করে দ্বিতীয় দিনের নিজের প্রথম দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন সুমন। ৬ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারানো ময়মনসিংহকে এরপর সেই বিপদ থেকে টেনে তোলেন শুভাগত হোম ও রাকিবুল হাসান। দুইজনের ১২৮ রানের জুটিতে বড় পুঁজি পায় তারা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেতে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে ৬১ রান করে আউট হন রাকিবুল। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। অন্যদিকে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হবার আগে ১২৫ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন শুভাগত। তাকেও ফেরান বিপ্লব।

৩৮৭ রানে অলআউট হয় ময়মনসিংহ। ঢাকার হয়ে বিপ্লব ৪ টি, সুমন ৩ টি, আরিফ ২টি এবং মাহফূজূড় ড়াব্বী একটি উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনে ৩ উইকেট হারিয়ে ১২০ রান তুলেছে ঢাকা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ৪২ তম ফিফটি তুলে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন নাইম। আরেক ওপেনার জিশান আলম আউট হয়েছেন ১৩ রান করে। ভালো শুরু করেও ২৮ রানে ফিরেছেন আশিকুর রহমান শিবলি। অন্যদিকে গোল্ডেন ডাক করে ফিরেছেন মার্শাল আইয়ুব। টানা দুই বলে এই দুইজনকে ফিরিয়ে হ্যাট্রিকের সম্ভাবনা জাগান রাকিবুল। নাইমের সাথে ৯ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামবেন মাহফুজুর রাব্বী।

আরেক ম্যাচে খুলনার ২০১ রানের জবাব দিতে নেমে প্রথম দিনেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল চট্টগ্রাম। সেখান থেকে দ্বিতীয় দিনে দলকে টেনে তোলেন দিপু ও শুক্কুর। দুইজন মিলে গড়েন ৯৩ রানের জুটি। ক্যারিয়ারের ১৪ তম ফিফটি তোলার পরপরই সামিউন বশির রাতুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন দিপু। দিপু আউট হবার পরপরই শেখ পারভেজ জীবনের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন চট্টগ্রমের অধিনায়ক শুক্কুর। ৫৫ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এই দুই ব্যাটার আউট হবার পর চট্টগ্রামের হাল ধরেন শামীম।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ২১ তম ফিফটি তুলে নেন শামীম। জীবনের বলে আউট হবার আগে ৩ টি করে ছক্কা ও চারে ৫১ রান করেন শামীম। অন্যপ্রান্তে কেউ বেশি টিকতে না পারায় ২৫০ রানে অলআউট হয় চট্টগ্রাম। প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানের লিড পায় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি স্বস্তিতে নেই খুলনাও। ওপেনিংয়ে নেমে বিজয় ফিফটির দেখা পেলেও টপ অর্ডারের কেউ উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ৫৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে মাহমুদুল হাসান জয়ের শিকার হন বিজয়।

মোহাম্মদ মিথুন ৫ বলে শূন্য এবং কালাম সিদ্দিকী অ্যালিন ১ রান করে আউট হন। ৫ নম্বরে নামা আফিফও তুলে নেন ফিফটি। ৯২ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত আছেন তিনি। দিনশেষে ৬ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছে খুলনা। চট্টগ্রামের হয়ে মোহাম্মদ রুবেল ১ টি এবং হাসান মুরা ও জয় দুটি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনার লিড এখন ১১২ রানের।

আরো পড়ুন: