ডি থ্রি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টটি শুধু মাঠের ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর আর্থিক সুফলও ভাগ করে দেওয়া হবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত সূচি ও পেশাদার পরিবেশ তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, জাতীয় দলের বাইরের ২০০ থেকে ৩০০ ক্রিকেটারের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা প্রয়োজন।
ডি থ্রি থেকে বিসিবির আয়ের অর্ধেকই দলগুলোর সঙ্গে ভাগ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তামিম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে বিসিবির যে রাজস্ব হবে, মুনাফা নয়,রাজস্বের পুরো ৫০ শতাংশ আমরা দলগুলোর সঙ্গে ভাগ করব। টিকিটিং, টিভি স্বত্ব, টাইটেল স্পন্সরশিপ কিংবা মাঠের স্বত্ব, যে খাত থেকেই রাজস্ব আসুক, তা ৫০-৫০ ভাগ হবে।’
টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল বিসিবিকে বছরে আড়াই কোটি টাকা করে দেওয়ার পাশাপাশি তিন বছরের চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে। তামিমের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই কাঠামোর ফলে ভবিষ্যতে বিসিবির উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ও হবে। ‘প্রথম বছরে খরচ হয়তো কিছুটা বেশি হবে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে শুধু ছয়টি দল থাকার কারণেই প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা করে বিসিবির সাশ্রয় হবে,’ বলেন তিনি।
ডি থ্রি’র আরেকটি বড় লক্ষ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে জাতীয় দলের তারকাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। অতীতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ঘরোয়া চার দিনের ম্যাচে নিয়মিত না খেলার বিষয়টি আলোচিত ছিল । এবার আর্থিক সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের কারণে বড় তারকারাও ঘরোয়া ক্রিকেটে আগ্রহী হবেন বলে আশা তামিমের। তার ভাষায়, ‘আগে হয়তো ঘরোয়া ক্রিকেটকে আমরা যতটা গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল, ততটা দিইনি। এখন আর্থিক ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে অনেক কিছু বাড়ানো হয়েছে। আমি নিশ্চিত, জাতীয় দলের বড় বড় তারকারাও এখানে খেলতে আগ্রহী হবে।’
তবে ডি থ্রি’র সঙ্গে জাতীয় দলের সূচির সংঘাত হবে না বলেও পরিষ্কার করেছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের সূচি ও জাতীয় দলের খেলা জাতীয় দলের মতোই থাকবে। এর সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো সম্পর্ক নেই। জাতীয় দলের বাইরে আরও ২০০ থেকে ৩০০ ক্রিকেটার আছে, যাদের নিয়েও আমাকে ভাবতে হবে।’
ডি থ্রি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইকন ড্রাফটও হয়েছে। ছয় দলের আইকন হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান সোহান ও নাঈম শেখ। তবে মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার মতো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের আইকন হিসেবে না কোনো দল না নেওয়ায় কিছুটা মনক্ষুন্ন বিসিবি সভাপতি।
তামিম বলেন, 'তারা দলে থাকলে টুর্নামেন্টের জন্য ভালো হতো, তবে দলগুলোর সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।আমার জন্য তো অবশ্যই ভালো হতো যদি নাহিদ রানা, তাসকিন, মুস্তাফিজ এদের নেয়া হতো। তবে, ৩ বছর ধরে এই দল তাদের সাথে থাকবে সাথে অভ্যন্তরীণ দলবদল থাকবে, দল নিজেদের মধ্যে নিজেদের প্লেয়ারদের বদল করার ব্যবস্থা থাকবে।'