‘কাউন্টি ক্রিকেটে হাসানকে কেন্টের পোস্টার বয় বলা যায়’

বাংলাদেশ ক্রিকেট
হাসান মাহমুদ, ফাইল ছবি
হাসান মাহমুদ, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই আলো ছড়িয়ে চলেছেন হাসান মাহমুদ। ইংলিশ কন্ডিশনে কেন্টের হয়ে একের পর এক ম্যাচে বল হাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশের এই পেসার। সর্বশেষ ডার্বিশায়ারের বিপক্ষেও দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে নিজের ধার আরও একবার দেখিয়েছেন তিনি। এমন পারফরম্যান্সে কেন্টে হাসানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ, আর বাংলাদেশের ক্রিকেটেও তা দেখছে আশার আলো হিসেবে।

চলতি মৌসুমে কেন্টের হয়ে চার ম্যাচ খেলেছেন হাসান। সেখানে ৮ ইনিংস বল করে মোট ২৬ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। যার মধ্যে আছে একটি ফাইফারও। হাসানের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কল্যাণে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়েও ইতিবাচক ধারনা তৈরি হয়েছে কাউন্টি ক্রিকেটে। হাসানের দল কেন্টের হয়ে ইতোমধ্যেই অভিষেক হয়েছে আরেক বাংলাদেশী পেসার খালেদ আহমেদেরও।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। হাসানের এমন পারফরম্যান্সকে তার কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফিস।

নাফিস বলেন, ‘প্রথমত, এর সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। আমাদের খেলোয়াড়রা দিনকে দিন তাদের খেলার মান ওপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটি তাদের কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফসল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমরা শুধু তাদের এই খেলতে যাওয়ার সুযোগটা করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।'

হাসানের বোলিংয়ের প্রশংসা করে নাফিস আরও বলেন, 'হাসান অসাধারণ পারফর্ম করেছে, কাউন্টি ক্রিকেটে তাকে কেন্টের ‘পোস্টার বয়’ই বলা যায়। বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে, তা ফ্র্যাঞ্চাইজি হোক বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, গিয়ে ভালো পারফর্ম করে, বাংলাদেশি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি। এতে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি বাড়বে, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চাহিদা বাড়বে এবং আমাদের খেলোয়াড়দের তারকাখ্যাতি তৈরি হবে। '

শুধু কাউন্টি নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যন্য লিগগুলোতেও। খেলোয়াড়দের স্কিল উন্নতির জন্য সেসব লিগে খেলতে দেখতে বোর্ড আগ্রহী হলেও জাতীয় দলের প্রয়োজন ও খেলোয়াড়দের ফিটনেসের কথা মাথায় রেখেই খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র দেবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি। নাফিস বলেন, 'এ বছর আমরা এখন পর্যন্ত ২৯টি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান করেছি। যা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বেশ আগ্রহী।'

হাসানের পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্সও বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ বলে মনে করেন নাফিস। সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) বল হাতে দাপট দেখাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার। ইতোমধ্যেই ২ ম্যাচে ৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। মিরাজকে নিয়ে নাফিস বলেন, 'মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় অনেক সমালোচনা শুনেছি, কিন্তু আমরা একটা জিনিস দেখেছি, সে মানসিকভাবে বেশ শক্ত একজন খেলোয়াড় এবং সে সব সময় তার পারফরম্যান্স দিয়েই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সে দারুণ একজন বোলার,তা টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি যা-ই হোক না কেন, সে পারফর্ম করে যাচ্ছে, তাই আমরা খুবই আশাবাদী।'

আরো পড়ুন: