গত দুই বছরে ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হওয়ার পাশাপাশি আয়োজনে বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা থাকায় ২০২৭ সালে আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। বর্তমান বাস্তবতায় দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তবে বিপিএল না হওয়ায় ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিসিবির সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছেন কোয়াবের প্রতিনিধিরা।
যেখানে দেশের সকল ক্রিকেটারদের কথা ভেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুনরা। কোয়াবের সেই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে বিসিবি। তামিম নিজেও জানিয়েছেন, তিনি বা তার বোর্ড শুধুমাত্র বিপিএল খেলা ৬০ জন ক্রিকেটারের চিন্তা করে ১৫০-২০০ জন ক্রিকেটার লাভবান হতে পারেন সেজন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমি ক্রিকেটারদের এক বছরের সমাধান চাইনি, আমি এবং আমার বোর্ড চেয়েছে এমন কোনো সমাধান আসুক যেটার মাধ্যমে ওরা বছরের পর বছর লাভবান হবে। আমি কেন ৬০ জন ক্রিকেটারের জন করব, আমাকে যদি করতে হয় যারা যারা খেলে তাদের সবার জন্য করতে হয়। আমাদের মেয়েদের দলের জন্যও করতে হবে, সবার জন্য করতে হবে।
তামিম বোর্ডে আসার আগে প্রথম শ্রেণির একটা ম্যাচের জন্য ৭০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি পেতেন ক্রিকেটাররা। সেটাকে বাড়িয়ে এখন দেড় লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ একশ শতাংশের বেশি বেড়েছে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ম্যাচ খেলার জন্য ৫০ হাজার টাকা পেতেন পুরুষ ক্রিকেটাররা। এখন থেকে তারা পাবেন এক লাখ টাকা করে। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ম্যাচ ফি করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমরা যেটা করেছি চার দিনের ক্রিকেট ম্যাচে ৭০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি পেতো, আমি এডহক কমিটিতে আসার পর এক লাখ টাকা করেছিলাম। ওর পর থেকে এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচও কিন্তু হয় নাই। ৭০ হাজার ধরেই বলছি এখন থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যখন খেলবে দেড় লাখ টাকা করে পাবে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০ হাজার টাকা ছিল এখন ১ লাখ টাকা করে পাবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০ হাজার ছিল ওইটা ৮০ হাজার করে পাবে।’
ছেলেদের ক্রিকেটের মতো মেয়েদের ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। ৬ মাস আগে তিন দিনের ম্যাচের জন্য ২০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি করলেও সেটা এখন ৪০ হাজার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন দিনের পরিবর্তে চার দিনের ম্যাচ আয়োজন করতে চায় বিসিবি। যাতে ভবিষ্যতে টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে সুবিধা হয়। এ ছাড়া ওয়ানডেতে ১৫ হাজারের পরিবর্তে ৩০ হাজার ও টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজারের জায়গায় ২০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি পাবেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।
তামিম বলেন, ‘মেয়েদের ক্রিকেটে যেটা ২০ হাজার ছিল তিন দিনের ম্যাচের...আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করছি চার দিনের করার যাতে তারা টেস্টের প্রস্তুতি নিতে পারে। ওইটা ২০ হাজার টাকা কিন্তু আমি বাড়ানোর পর ছিল। ওইটাকে এখন ৪০ হাজার করে দেওয়া হয়েছে। যেটা ১৫ হাজার ছিল ওইটা ৩০ হাজার করা হয়েছে। যেটা ১০ হাজার ছিল ওইটাকে ২০ হাজার করা হয়েছে। একশ শতাংশেরও বেশি সব বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
২০২৪ বিপিএলের সময় মুশফিকুর রহিম বলেছিলেন, বিপিএল না হলে তাদের সংসার চালানো কঠিন হবে। বিশেষ করে যারা জাতীয় দলের বাইরে থাকেন তাদের আয়ের বড় একটা অংশ আসে বিপিএল থেকে। ডিপিএল থেকেও আয় করতে পারেন। ক্রিকেটাররা যাতে বিপিএল ও ডিপিএলের উপর নির্ভরশীল না থাকে এজন্যই বিসিবির অধীন্থ টুর্নামেন্টগুলোতে ম্যাচ ফি বাড়িয়েছে তামিমের বোর্ড।
এনসিএল, এনসিএল টি-টোয়েন্টি, বিসিএলের সঙ্গে নতুন আরেকটি টুর্নামেন্ট খেলবেন ক্রিকেটাররা। একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যদি পুরো মৌসুম খেলেন তাহলে বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। তামিম বিশ্বাস করেন, এই টাকা দিয়ে ক্রিকেটাররা অনায়াসে তাদের সংসার চালাতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘এখন একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যখন পুরো মৌসুম খেলবে, স্যালারিসহ বছরে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করবে। ওইটাকে যদি আপনি ১২ দিয়ে ভাগ করেন একটা ছেলে ৩ লাখ টাকার বেশি মাসে ইনকাম থাকবে...। আমি বলব না এটা দিয়ে অনেক কিছু করে ফেলতে পারবে, গাড়ি ঘোড়া সব কিনতে পারবে। কিন্তু তাদের পরিবার চালাতে আমার মনে হয় না আর টেনশন করার দরকার পড়বে। এটা বড় একটা উদ্যোগ।’
তামিম বারবার বলার চেষ্টা করেছেন তার বোর্ড সবসময় ক্রিকেটারদের পাশে আছেন। গত কয়েক মাসে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও মাসিক বেতন বাড়িয়ে সেটা প্রমাণ করেছেন। এ ছাড়া অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়নেরও চেষ্টা করেছেন তিনি। বিসিবি ক্রিকেটারদের সব আবদার বিশেষ করে আর্থিকভাবে সাপোর্ট দেওয়ায় এখন থেকে তাদের কাছ থেকেও পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করছেন তামিম।
বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়ে থাকে। কেউ কেউ এটাকে পিকনিক লিগও বলে থাকে। ক্রিকেটাররা যেন এখানে পেশাদারিত্ব দেখান এবং সিরিয়াস হউন এটা চাওয়া তামিমের। বিসিবি সভাপতি এও জানিয়েছেন, এত সাপোর্ট দেওয়ার পরও ফিটনেস টেস্টে ফেল করে কেউ অনুরোধ করলে এসব মেনে নেওয়া হবে। এখন থেকে ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের একটা জিনিসও অবশ্যই আমাদের তরফ থেকে বলেছি খেলোয়াড়দের তরফ থেকে যে চাওয়া ছিল সেটা আমরা পূরণ করব। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে যে চাওয়া এখন ওইটা ওদেরও পূরণ করতে হবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব (দেখাতে হবে)। যেটা নিয়ে অনেক ধরনের আলোচনা হয় আমাদের মধ্যে। ওইটাতে কোনো ছাড় নেই। যখন কেউ ফিটনেস টেস্টে পাশ না করে এটা নিয়ে অনুরোধ শোনা হবে না। যখন বোর্ডের তরফ থেকে আর্থিকভাবে সব সাপোর্ট দিচ্ছে, খেলোয়াড়দের তরফ থেকেও পেশাদারিত্ব (দেখাতে হবে)। এটা খুবই কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।’