মেহরব-সাকলাইনদের নৈপুণ্যে এইচপির বড় জয়

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেননি বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের কোন ব্যাটারই। তবুও বাংলাদেশ পেয়েছে বড় জয়। ব্যাটিংয়ে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের তিনটি ছক্কা আর অধিনায়ক এস এম মেহরবের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পায় চ্যালেঞ্জিং এক সংগ্রহের দেখা। দুজনের ৫২ রানের জুটি বাঁচায় ঘরের মাঠে বাংলাদেশের মান। ২০ ওভারে বাংলাদেশ করে ১৫৮ রান। জবাবে ৬৯ রানে অল আউট হয় মালয়েশিয়া। এইচপি জিতে ৮৯ রানে।

টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় মালয়েশিয়া। ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ এইচপিকে। তবে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো শুরু করতে পারেননি বাংলাদেশ এইচপির টপ অর্ডার ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ওভারেই রানের খাতা খোলার আগে ডাক হাঁকিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার জিসান আলম।

৭ রানে বাংলাদেশ হারায় নিজেদের প্রথম উইকেট। এরপর আরিফুল ইসলাম এবং জাওয়াদ আবরার মিলে গড়ে তুলেন জুটি। তবে সেই জুটি লম্বা হওয়ার আগেই আরিফুল সাজঘরে ফেরেন পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে, দলীয় ৪১ রানে। আরিফুল প্যাভিলিয়নে ফেরেন নামের পাশে ১৫ রান নিয়ে। দুই উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লে'র ছয় ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫০ রানের।

অষ্টম ওভারের প্রথম বলেই সফট ডিসমিসাল উপহার দেন জাওয়াদ আবরার। দারুণ ব্যাটিং দেখানো এই ওপেনার লম্বা করতে পারেননি নিজের ইনিংসটা। আউট হন ১৮ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে। দলকে বড় রানের সংগ্রহ এনে দেয়ার দায়িত্বটা এসে পরে সাব্বির রহমানের উপর। উইকেটরক্ষক ব্যাটার প্রিতমের সঙ্গে গড়ার চেষ্টা গড়েন জুটি।

তবে নবম ওভারে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে আউট হন প্রিতমও।

এরপর অধিনায়ক এস এম মেহরব নেমে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে খুলেন নিজের রানের খাতা। বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন সাব্বিরও। যদিও বড় ইনিংস খেলার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। স্লোয়ার বলে বোলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাব্বির ফিরেন ১২ বলে ১৪ রান করে। শেষমেশ ইনিংসের মাঝামাঝিতে অর্থাৎ ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান।

১০ ওভারেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পরা বাংলাদেশ এরপর খেলা শুরু করে দেখেশুনে। মেহরব এবং সাকলাইন খেলতে থাকেন প্রান্ত বদল করে। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলা শুরু করেন অধিনায়ক মেহরব। তাকে সঙ্গ দেন বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তার চারেই বাংলাদেশ পার করে ১০০ রানের মাইলফলক।

১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় সেই পাঁচ উইকেট হারিয়েই ১১৫ রানের। তবে ১৬তম ওভারের শেষ বলে সেই ছক্কা মারতে গিয়েই ক্যাচ তুলে আউট হন সাকলাইন। সাজঘরে ফেরেন ২৬ বলে ৩২ রান করে। ভাঙে অধিনায়কের সঙ্গে গড়া ৫২ রানের জুটিটা। দলীয় ১২৮ রানে বাংলাদেশ হারায় নিজেদের ৭ম উইকেট। মাত্র ১ রান করে ফেরেন আবু হায়দার রনি।

১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই বোল্ড হন বাংলাদেশি বংশদ্ভুত নাজমুস সাকিব। আবু হায়দার রনির দূর্দান্ত শুরুতে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ এইচপি। দ্বিতীয় উইকেট আসে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে। রুবেলের দুসরায় আসলাম সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা খোলার আগে। মাত্র ৬ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে মালয়েশিয়া।

যদিও পঞ্চম ওভারে সাকলাইনের শেষ তিন বলে তিনটি চার হাকিয়ে ম্যাচে ফেরে সফরকারীরা। তবে সেই জুটি ভাঙেন স্পিনার রাকিবুল। ডিরেক্ট বোল্ড করেন মুনিয়ানদিকে। পাওয়ার প্লে শেষে মালয়েশিয়ার সংগ্রহ দাড়ায় তিন উইকেট হারিয়ে ২৮ রান।

সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই নিজেদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউট হন সৈয়দ আজিজ। রানের খাতাই খুলতে পারেননি মালয়েশিয়ার অধিনায়ক। তবে চার উইকেট হারালেও, রানের চাকা সচল রাখেন আকিল। জুটি গড়ার চেষ্টা গড়েন আজিমের সঙ্গে। তবে অধিনায়ক মেহরব ব্যাটের বল বল হাতেও এসে স্বস্তি এনে দেন বাংলাদেশকে।

তার বলেই মৃত্যুঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আকিল ফেরেন ২৫ বলে ২৯ রান করে। ১০ম ওভারে এসে রাকিবুল শিকার করেন আরো একটি উইকেট। ৪১ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যায় সফরকারীরা। সাকলাইন ১৪ রান করা ভিজয়কে ফেরালে, ৬৩ রানে আজিজের দল হারায় নিজেদের সপ্তম উইকেট। রুবেলের বলে ১৫ রান করে আজিম ফিরলে, অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়, সেটিও বড় ব্যবধানে।

আরো পড়ুন: