বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায়শই আম্পায়ারদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়ে থাকে। তবে সবশেষ কয়েক বছরে অভিযোগ কমেছে, বাংলাদেশের আম্পায়ারিংও তুলনামূলকভাবে উন্নতি হয়েছে। মাসুদুর রহমান মুকুল, গাজী সোহেলরা নিয়মিতই আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করছেন। আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টেও কাজ করছেন তারা।
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত তো আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার হিসেবে সুনাম কুড়াচ্ছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাশেজ, বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ও অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির মতো সিরিজেও। তবে বাংলাদেশে আম্পায়ারদের কাঠামো, তাদের শিক্ষিত করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য তৈরি করা এবং পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতেই টাফেলকে নিয়োগ দেয় বিসিবি।
বাংলাদেশে প্রায় ১২শ আম্পায়ার আছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেইনি, ডিস্ট্রিক্ট, রিজওনাল, ন্যাশনাল ও বিসিবি এলিট আম্পায়ার—এই প্রক্রিয়া মেনে আসতে হয়। সেটার জন্য ভালো মানের কাঠামো না থাকায় আম্পায়ারদের দ্রুত উন্নতিও হচ্ছে না। টফেলের প্রধান কাজ ছিল আম্পায়ারদের জন্য কেপিআই (কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর) তৈরি করা।
এরপর একটা গ্রেডিংয়ে নিয়ে আসার পর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আম্পায়ারদের প্রমোশন কিংবা অবনতি হবে। আম্পায়ারদের সঙ্গে ম্যাচ রেফারির মূল্যায়নও হওয়ার কথা ছিল টফেল কিংবা তার এজেন্সির মাধ্যমে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আম্পায়ারদের এমনভাবে তৈরি করার কথা ছিল যারা কিনা পরবর্তীতে পাইপলাইনে যারা আছেন তাদের শেখাবেন।
এমন পরিকল্পনায় টফেলকে আনা হলেও তাকে রাখছে না বিসিবি। জানা গেছে, ২৯ জুলাই পরিচালনা পর্ষদের সভায় সাবেক এই আম্পায়ারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ভবিষ্যতে আম্পায়ারদের নিয়ে কী ধরনের পরিকল্পনা করা হবে সেটা নিয়ে অবশ্য কিছু জানায়নি তারা। ধারণা করা হচ্ছে, আম্পায়ারিং নিয়ে দ্রুতই নতুন পরিকল্পনা হাতে নেবে তামিমের বোর্ড।