দুর্বার সাহসে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
নাহিদ রানার আরেকটি উইকেট, বিসিবি
নাহিদ রানার আরেকটি উইকেট, বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‘যদি তারা যথেষ্ট সাহসী হয় এটা করার জন্য, ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেয়, আমরা তাহলে তা তাড়া করব। কিন্তু আমার মনে হয় না তারা তা করবে।’ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি ছোটখাটো হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন সালমান আলী আঘা। পাকিস্তানের ব্যাটার একটা মাইন্ড গেম খেলতে চেয়েছিলেন, সেটা পেরেছেনও। সালমানের সেই চ্যালেঞ্জ লুফে নিতে একটুও সময় নেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চের তখনো কয়েক মিনিট বাকি।

বাংলাদেশের লিড তখন ২৬৭ রান। নাহিদ রানাকে ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে ইনিংস ঘোষণা করলেন শান্ত। সালমান যা চেয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাই দিলেন। তবে নিজের চ্যালেঞ্জে নিজে উতরে যেতে পারলেন না সালমান। ডানহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন মাত্র ২৬ রানে। বাকি সতীর্থদের ভেতরে আব্দুল্লাহ ফজল হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তবুও দুই সেশনে জয় বের করতে পারেনি পাকিস্তান। উল্টো শেষ বিকেলে ড্রয়ের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে খেলেও ম্যাচ হারে পাকিস্তান। নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটের ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্সে সফরকারীরা হেরেছে ১০৪ রানের ব্যবধানে। ঘরের মাঠে এবারই প্রথম পাকিস্তানকে টেস্টে হারাল বাংলাদেশ।

২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ইমাম উল হকের উইকেট হারায় পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের গুড লেংথের বলে খোঁচা মেরে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন পাঁচ বলে দুই রান করা ইমাম। দ্রুত এক উইকেট হারানোর পর আজান আওয়াইস এবং আবদুল্লাহ ফজলের ব্যাটে খানিকটা গুছিয়ে নেয় পাকিস্তান। দুজনের জুটি ছিল ৫৪ রানের। ৩৩ বলে ১৫ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন আজান।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবিধা করতে পারেননি শান মাসুদ। পাঁচ বলে দুই রান করে নাহিদ রানার শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। এর একটু পর হাফ সেঞ্চুরি তোলেন ফজল। ৩১ ওভারে তিন উইকেটে ১১৬ রান করে চা-বিরতিতে যায় পাকিস্তান। জয়ের জন্য তখনো ১৫২ রান দরকার ছিল পাকিস্তান, বাংলাদেশের দরকার ছিল সাত উইকেট। চা বিরতি থেকে ফিরে প্রথম ওভারেই ফজলকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। ১১৩ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেই তাসকিন তুলে নেন সালমানের উইকেট। দ্বিতীয় স্লিপে থাকা সাদমান ইসলামকে ক্যাচ দেয়ার আগে ৩৯ বলে ২৬ রান করেন সালমান। এর খানিক সময় পরই ৩২ বলে ১৫ রান করে ফিরে যান সাউদ সাকিল। নাহিদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। তারপর রিজওয়ানকে বোল্ড করে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক মারেন নাহিদ। ৪৬ বলে ১৫ রান করেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক। নোমান আলী, হাসান আলীদের কেউই সুবিধা করতে পারেননি। দুজনই ফিরে যান এলবিডব্লিউ হয়ে। শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানে অল আউট হয় দলটি। ৪০ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নেন নাহিদ।

এর আগে পঞ্চম দিন সকালে বাংলাদেশ খেলে ২০ ওভার। ৮৮ রান তুলতে পারে দলটি, হারায় ছয় উইকেট। দিনের শুরুতে ৩৭ বলে ২২ রান করে ফিরে যান মুশফিক। দ্রুত রান তোলার মিশনে ২৮ বলে ১১ রান করে ফেরেন লিটন। ১৯০ রানে পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ৬৮তম ওভারে গিয়ে ফিরে যান শান্ত। নোমান আলীর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো শান্তর ব্যাটে আসে ১৫০ বলে ৮৭ রান। ২২৫ রানের মধ্যে মিরাজের উইকেটও হারায় বাংলাদেশ। নোমানের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেয়ার আগে ২৭ বলে ২৪ রান করেন মিরাজ। এরপর এক ছক্কা, এক চারে ১১ রান করে তাসকিন আউট হলে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন: