২০১৮ সালে এশিয়া কাপ জিতলেও গত কয়েক বছরে মেয়েদের ক্রিকেট খুব একটা এগোয়নি। বরং সেই পুরনো বৃত্তে এখনো ঘুরপাক খাচ্ছেন তারা। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত লিগ না হওয়া, জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকার সঙ্গে ক্যাম্প করে বড় টুর্নামেন্টগুলোর প্রস্তুতি নেওয়া যেন মেয়েদের ক্রিকেটের নিয়মিত চিত্র। নিয়মিত ক্যাম্প করলেও ক্রিকেটারদের ফিটনেসে চিরচেনা পরিবর্তন আসেনি।
ব্যাটিংয়ে এখনো পুরনো যুগে বন্দী হয়ে আছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মেয়েদের বেশিরভাগ সাফল্যেই এসেছে অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে। বিশ্বকাপের বাইরে এশিয়া কাপেও প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না জ্যোতিরা। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে যেন লড়াই ই করতে পারেননি তারা। তবে এখনই এসব নিয়ে আলাপ করতে চান না রফিকুল ইসলাম বাবু। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান তিনি।
বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ সদ্যই এশিয়া কাপ শেষ হলো। ওইখান থেকে ওরা সরাসরি এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবে। আমি এখন এমন কথা বলতে চাচ্ছি না... যেহেতু দল আগেই নির্বাচিত হয়েছে, অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছে। আরও দেড়-দুই মাস আগে দল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
‘এখন এই দলটাই খেলতে হবে। আমরা আশা করছি ওইখানে গিয়ে তারা ভালো খেলবে। যে সমস্ত ভুলগুলো করেছে সেগুলো শুধরে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এই মুহূর্তে যেগুলো শোনা যাচ্ছে সেগুলো আমরাও শুনেছি, পর্যবেক্ষণ করছি। তবে টুর্নামেন্টের পর ইনশাআল্লাহ আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করব।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের মতো ব্যাটার হিসেবে নিষ্প্রভ জ্যোতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে স্কটল্যান্ডে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে ছন্দে ছিলেন তিনি। তবে সবশেষ ১০ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি নেই ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারের। এশিয়া কাপে চার ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের আগে অনেক কিছুই করার আছে বলে জানান রফিকুল। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করা হয়েছে, দেখি এশিয়ান গেমসে তারা কেমন খেলে। আমরা আশা করছি ভালো খেলবে। তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব আসলে কী করা যায়। তারপর আমাদের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর আছে, অনেক কিছুই করার আছে আমাদের।’
গত কয়েক মাসে জ্যোতির অধিনায়কত্ব নিয়ে এক সময়ের সতীর্থ ক্রিকেটারদের অভিযোগ করেছেন। জাতীয় দলে এককভাবে সবকিছু পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ আছে। যদিও এসব বিসিবিই উড়িয়ে দিয়েছে। জ্যোতিও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অধিনায়ক জ্যোতিকে এশিয়ান গেমসে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এমনকি টুর্নামেন্ট শেষে সবকিছুই খতিয়ে দেখবে বিসিবি।
রফিকুল বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। আমাদের বোর্ড সভাপতির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আপনারা জানেন এশিয়ান গেমসের নাম অনেক আগেই দিতে হয়। আমরা যদি দেখি ওইখানে ভালো পারফর্ম করে, সবকিছুই ঠিকঠাক থাকে তাহলে একরকম। আর আমাদের কাছে যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলো ইনশাআল্লাহ আমরা খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এশিয়ান গেমসে ভালো করলে জ্যোতি টিকে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারপরেও আমাদের অনেক সমস্যা আছে। আমরা বড় বড় দেশগুলোকে তো পরাজিত করতে পারি নাই। বিশ্বকাপেও কিন্তু আমরা অনেক ভালো খেলেছি, তারপরেও সামান্য ভুলের জন্য পরাজিত হতে হয়েছে। সেই জিনিসগুলো আমরা নিয়ে কাজ করছি, যে কীভাবে দলটাকে আরো সুন্দর করা যায় এবং শক্তিশালী করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি।’