সঞ্জয় বাঙ্গারের ২৫ বছর বয়সী সন্তানকে কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন ক্যাপ। মেলবোর্ন স্টার্সের এই অলরাউন্ডার লিখেছেন, 'একেবারেই হাস্যকর। এটা অনুমোদন করা উচিত নয়।' ক্যাপের মন্তব্যের পর ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটারদের নারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাপের মন্তব্যের জবাবে আনায়া বলেন, 'যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলতে চান, তাদের আসলে এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের শিক্ষিত করা উচিত। অন্যায্য কোনো সুবিধা নেই, এ বিষয়ে আমি প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছি এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত নির্দেশনাও মেনে চলেছি। কারও ব্যক্তিগত মতামত যদি এমন হয়, তাহলে আশা করি তারা আগে বিষয়টি সম্পর্কে জানবেন।'
আনায়ার ক্রিকেটে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে দীর্ঘ বিরতির পর। রূপান্তরের আগে তিনি মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন এবং সারফরাজ খান ও মুশির খানের সঙ্গে একই পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটেও খেলেছেন তিনি। ২০২৬ সালের মার্চে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারির পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন আনায়া। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় ক্লাব ক্রিকেট দিয়ে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করার উদ্যোগ নেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী, নারী ক্রিকেটের এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। আনায়া আপাতত অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা পেয়েছেন। ২০২৭ সালের মার্চে তাঁর টেস্টোস্টেরনের মাত্রা আবার পরীক্ষা করা হবে। শর্ত পূরণ করতে পারলে এরপর এলিট নারী ক্রিকেট, এমনকি নারী বিগ ব্যাশ লিগের পথও তাঁর জন্য খুলে যেতে পারে।
তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি দলে জায়গা পাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে নিষেধ করেছেন আনায়া। তাঁর মতে, যোগ্যতা অর্জন করা আর নির্বাচিত হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। অর্থাৎ তাঁকে শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে; পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে জায়গা করে নিতে হবে তাঁকেই।