হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেল কাজ করবেন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ১লা এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন নাইমদের ৪ সদস্যের নির্বাচক প্যানেল। দায়িত্ব নেওয়ার আগে নির্বাচক হিসেবে ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের পরিকল্পনা, ভাবনার কথা জানিয়েছে নাইম। বিসিবির নতুন নির্বাচকের কথা শুনেছেন মমিনুল ইসলাম।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: নির্বাচক প্যানেল বাছাইয়ে এবার একটা বিশেষত্ব ছিল আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া। এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
নাইম— আমার মনে হয় এটা (নির্বাচকদের সাক্ষাৎকার) যদি প্রথম হয়ে থাকে তাহলে বিসিবি খুব পেশাদারভাবে করেছে। পাশাপাশি অপারেশন্সের দায়িত্বে যারা আছেন তারা খুব ভালোভাবে, পেশাদারিত্বের সঙ্গে জিনিসটা মেইনটেইন করেছেন। আপনি যদি কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকান তাহলে দেখবেন একটা বিজ্ঞাপন দেয়, মানুষ সেখানে আবেদন করে, সাক্ষাৎকার নেয় তারপর কিন্তু সুযোগ দেওয়া হয়।
আমি বলব একই সিস্টেম আমাদের ক্রিকেট বোর্ডেও আসতে শুরু করেছে। খুবই ভালো একটা জিনিস হয়েছে। এবার অনেকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আগে হয়ত যাদেরকে ভালো মনে হয়েছে তাদেরকে সরাসরি নেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নেওয়ার হলে একটা স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক সহায়তা করবে।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: সাক্ষাৎকারের সময় আপনি কী ধরনের পরিকল্পনার কথা বলেছেন এবং বিসিবির কাছে কী চাওয়া ছিল?
নাইম— ওইখানে যারা ছিলেন যেমন রাজ ভাই, পাইলট ভাই তাদের সাথে আমি ক্রিকেট খেলেছি। তারপর ফাহিম স্যার ছিলেন, ফারুক ভাইও ছিলেন— আমি তো ছোটবেলা থেকেই উনাদের সামনে বড় হয়েছি। উনাদের সাথে আমার যেটা বলার ছিল সেটা হচ্ছে আমার পরিকল্পনা কী, নির্বাচক হিসেবে কীভাবে অবদান রাখতে পারি বা আমার কোথায় কীভাবে অবদান রাখার সুযোগ আছে। পুরো বিষয়টা আমি তাদের সবার সঙ্গে শেয়ার করেছি। কী কথা হয়েছে সেটা এখনই খোলাসা করতে চাই না। কাজের মাধ্যমে আপনারা অবশ্যই সেটা দেখতে পারবেন।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: বিসিবির নির্দিষ্ট কোনো চাওয়া ছিল?
নাইম— বিসিবি থেকে যেটা চাওয়া ছিল সেটা হচ্ছে আপনাকে অন্তত ১০০ স্বীকৃত ম্যাচ খেলতে হবে। আর আপনি যদি জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়ে থাকেন তাহলে তো হলেই। এরকম কিছু ক্রাইটেরিয়া ছিল। আর কাজের ক্ষেত্রে যদি কোনো গাইডলাইনের কথা বলেন তাহলে সে ব্যাপারে কথা হয়নি। ১লা এপ্রিল থেকে আমাদের জয়েনিং। আশা করছি আমাদের প্রধান নির্বাচক বাশার ভাই আছেন, তারপর ক্রিকেট অপারেশন্সের যিনি চেয়ারম্যান আছেন উনারা অবশ্যই আমাদের নিয়ে বসবেন এবং সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেবেন। আশা করছি সেটা আমাদের খুব হেল্প করবে।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: অনেক সময় তো প্রধান নির্বাচকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত থাকে। ধরুন, আপনার সঙ্গে কাউকে নিয়ে মতের অমিল হলো তখন কী করবেন?
নাইম— আমার কাছে মনে হয় কোচিংয়ে এখন খুব ভালো ভালো কিছু মানুষ আছেন। কোচিংয়ে আমার এখন কেবল লেভেল-ওয়ান করা, টু, থ্রি শেষ হয়নি। কোচিং খুবই সম্মানের একটা জায়গা। অনেক কিছু শেয়ার করতে পারবেন, দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচক হিসেবে যদি নিজেকে চিন্তা করি তাহলে নির্বাচক হিসেবেও আপনার দেশকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। এখানে কাজ করার অনেক জায়গা। এখানে একটা সুযোগ ছিল সেটা আমি নিয়েছি।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: বাদ পড়া ক্রিকেটাররা প্রায়শই অভিযোগ করেন নির্বাচকরা তাদের সঙ্গে কথা বললেন না, ব্যাখ্যাও দেন না। আপনিও তো এরকম একজন ভুক্তভোগী। আপনি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কতটা ট্রান্সপারেন্ট থাকবেন?
নাইম— দেখুন, কোনো একজন খেলোয়াড় বাদ পড়তে পারেন আবার দলেও আসতে পারেন। এটা খুবই সাধারণ একটা প্রক্রিয়া। আমার ব্যক্তি চিন্তা-ভাবনার কথা যদি বলেন তাহলে যে খেলোয়াড়টা বাদ পড়তেছে সে অবশ্যই জানবে সে কেন বাদ পড়তেছে। এ ছাড়া কী কী উন্নতি করতে হবে, কোথায় অনুশীলন করবে— তাকে নিয়ে একটা ভালো পরিকল্পনা থাকবে। একজন খেলোয়াড় যখন জাতীয় দলে খেলে তখন সে কিন্তু হুট করেই জাতীয় দলে আসে না।
সে অনেক বছর কষ্ট করে, অনেক পারফর্ম করার পরে জাতীয় দলে আসে। এত কষ্ট করার একটা ছেলে যখন জাতীয় দলে আসে তখন সে হয়ত খারাপ করতেই পারে। কিন্তু খারাপ করার সাথে সাথে ছেলেটাকে আমি বাদ দিয়ে দিলাম কিংবা একদম পরিকল্পনার বাইরে ঠেলে দিলাম, আমার মনে হয় না আমাদের নির্বাচক প্যানেলের এরকম চিন্তা-ভাবনা থাকবে। এটা পুরোপুরি আমার ব্যক্তিগত ধারণা। আমার মনে হয় সব খেলোয়াড়ই জানতে পারবে তাদের কোথায় ল্যাকিংস আছে, কোথায় উন্নতি করে আবার কামব্যাক করতে হবে।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: আপনি বলছেন যারা বাদ পড়বেন তাদের নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা থাকবে। কিন্তু একজন ক্রিকেটার জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লে তো মিরপুরে অনুশীলনেরই সুযোগ পায় না...
নাইম— আমার ব্যক্তিগত চাওয়া হচ্ছে যেই ছেলেগুলো জাতীয় দল থেকে বাদ পড়বে এবং যেই ছেলেগুলো জাতীয় দলে ঢোকার অবস্থায় থাকবে তাদেরকে নিয়ে সারা বছর একটা ক্যাম্প চলতে থাকবে। এমনকি তারা ‘এ’ দলের সিরিজগুলোর মধ্যে থাকবে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলে যেই ছেলেরা বের হয় তাদেরও সুযোগ-সুবিধার দরকার। আপনি তো অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে আসা একটা ছেলেকে তো হুট করেই জাতীয় দলে খেলাতে পারবেন না। তারা সরাসরি জাতীয় দলে ঢুকে যাবে সেটাও তো হবে না। যুব দল থেকে কাউকে যদি জাতীয় দলে ঢুকতে হয় তাহলে তাকে এক্সট্রাঅর্ডিনারি ট্যালেন্টেড হতে হবে। আবার যদি এক্সট্রাঅর্ডিনারি পারফর্ম করে তখন একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকেই জাতীয় দলে ঢুকে যাবে ব্যাপারটা মোটেও এমন না।
সেই ছেলেটা যাতে নিজেকে গ্রুমিং করার সময় পায়। এখন কথা হচ্ছে তারা কাদের কাছে গ্রুমিং হবে? বাংলাদেশের যারা টপ কোচ আছে তাদের অধীনে নিজেদের গ্রুমিং করবে এবং তাদেরকে নিয়ে আলাদা একটা ক্যাম্প হবে। আমি নিশ্চিত বোর্ড নতুন একটা পরিকল্পনা করেছে আপনারা হয়ত জানতে পারবেন। তাদেরকে নিয়ে দুইটা দল থাকবে। দুইটা দল হচ্ছে একটাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম আস্তে আস্তে প্রস্তুত হবে আরেকটিতে ব্যাকআপ প্রস্তুত হবে। তারাও সবসময় অনুশীলনের মধ্যে থাকবে। একই সঙ্গে যখন জাতীয় দল, তারপরের দল এবং তারপরের দলও অনুশীলনে থাকবে তখন একসাথে তিনটা দল প্রস্তুত হবে। বেশি সংখ্যক খেলোয়াড় অনুশীলনের মধ্যেও থাকতে পারবে।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: অনেক সময় তো প্রধান নির্বাচকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত থাকে। ধরুন, আপনার সঙ্গে কাউকে নিয়ে মতের অমিল হলো তখন কী করবেন?
নাইম— আমার কাছে যাকে ভালো মনে হবে তাকে আপনার কাছেও ভালো মনে হতে হবে, ব্যাপারটা এরকম না। আবার আপনার কাছে যাকে ভালো মনে হয়েছে তাকে আমার কাছেও ভালো মনে হবে সেটাও না। একজন খেলোয়াড় যখন পারফর্ম করে তখন সেটা নিয়ে লুকোচুরি করার কিছু নেই। কারণ মাঠে পারফর্ম করে। আপনি যখন মাঠে যাবেন, খেলবেন, পারফর্ম করবেন তখন সব পরিসংখ্যানে থাকবে, দেখতেও পারবেন। কোন ছেলে আপনি নিতে চাচ্ছেন, কোন ছেলেকে বাদ দিতে চাচ্ছেন, কী করতে চাচ্ছেন— আপনার সঙ্গে আমার একটা বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হতেই পারে।
এটা খুবই ভালো একটা জিনিস। আপনার কাছে যদি সব পরিসংখ্যান থাকে, আমি যদি আপনাকে দেখাই যে এই ছেলে গত এত বছরে এমন পারফর্ম করেছে। এখন আপনারা ঠিক করেন কোন খেলোয়াড়টা ভালো। তর্ক-বিতর্কের জায়গায় তর্ক-বিতর্ক থাকবে। একটা জায়গায় যদি তর্ক-বিতর্ক না থাকে সবাই যদি শুধু হ্যাঁ হ্যাঁ করে তাহলে কিন্তু এখানে উন্নতি করার জায়গা কম। একটা স্বাস্থ্যকর তর্ক-বিতর্ক অবশ্যই প্রয়োজন।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: এতদিনে তো ডিপিএলের প্রায় অর্ধেক মৌসুম শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু এখনো লিগ শুরু হয়নি, হবে কিনা সেটারও নিশ্চয়তা নেই। লিগ না হওয়াটা আপনাদের কাজে একটা ব্যাঘাত ঘটালো কিনা
নাইম— ডিপিএলটা হলে খুবই ভালো হতো। কারণ ডিপিএল হচ্ছে আমাদের খেলোয়াড়দের রুটি-রুজির জায়গা। আপনি যদি দেখেন কতজন খেলোয়াড় ন্যাশনাল লিগ খেলে আর কতজন ডিপিএল খেলে। ৫০ শতাংশের বেশি খেলোয়াড় কিন্তু ন্যাশনাল লিগ খেলে না। সুতরাং ওইভাবে যদি চিন্তা করেন তাহলে ডিপিএলের উপর আমরা অনেক খেলোয়াড়ই নির্ভরশীল থাকি। ডিপিএলটা যদি হতো আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হতো, নির্বাচকদের জন্যও ভালো হতো। সবাই লাভবান হতে পারতো। এখন কোনো জিনিস যদি না হয় সেটা নিয়ে আসলে কিছু বলার বা করার নেই। আশা করছি যারা আছে তাদেরকে নিয়ে সবার একটা খেলার ব্যবস্থা করে দেবে। সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি আছে। সেখানে তাদের পারফরম্যান্স দেখে দেশের জন্য একটা সেরা দল নির্বাচন করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: লম্বা সময় রংপুরকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, কদিন আগে শিরোপাও জিতেছেন। অনেকে হয়ত ভাবতে পারে নাইম ভাই যেহেতু আমাদের অঞ্চলের, কাছের বড় ভাই আমাদের দিকে হয়ত সুদৃষ্টি দেবেন। তাদের এই ভাবনাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
নাইম— এরকম চিন্তা তারা করতেই পারে। তাদের চিন্তাটা যে ভুল সেটা আমি বলব না।কিন্তু কথা হচ্ছে আপনি যখন একটা দায়িত্বশীল জায়গায় থাকবেন তখন আপনি আলাদা করে দেখতে পারবেন না। আমার কাছে রংপুরের ছেলেটাও যেরকম, চট্টগ্রামের ছেলেটাও সেরকম। সবকিছুই হবে পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে। আপনি যে অঞ্চলেরই হন না কেন পারফর্ম করলে সুযোগ পাবেনই। আমার কাছে যাকে মনে হবে ভালো পারফর্মার, দেশের জন্য লম্বা সময় খেলতে পারবে তাকেই আমি দলে নিব। কাউকে দলে নেওয়ার সময় আপনি কখনো চিন্তা করব না কেন রাজশাহীর, কে রংপুরের, কে সিলেটের কিংবা চট্টগ্রামের। আমার কাছে আগে দেশ। যাকে দলে নিলে দেশের ভালো হবে আমি তাকেই দলে নিব।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: আপনি তো কদিন আগেও ক্রিকেট খেললেন। কোনো তরুণকে দেখে মনে ধরেছে এমন কেউ আছে?
নাইম— বাংলাদেশে আমি সবসময় ফিল করি সবাই চায় একজন খেলোয়াড়কে প্রমোট করতে যাতে আমার নাম হয়। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মানুষের ভেতরে আমি এই ধরনের প্রবণতা দেখেছি। আমি প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে চাই। আমি যখন নির্বাচক ছিলাম তখন এই খেলোয়াড়কে আমি নিয়ে এসেছি, ওই খেলোয়াড় আজকে অনেক ভালো খেলেছে—আমার ভেতরে ওই ধরনের ভাবনা নেই। যখন যে ভালো খেলবে, পারফর্ম করবে তখন সে সুযোগ পাবে। আপনি হয়ত গাইডলাইন দিতে পারেন পুরো কাজটা কিন্তু মাঠের ভেতরে গিয়ে খেলোয়াড়কে করতে হয়। আমরা অনেক সময়ই বলি ওকে ও তৈরি করে ফেলেছে, ওই নির্বাচক নিয়ে এসেছে। এই ধরনের কথা আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। আমার কথা হচ্ছে একটা ছেলে পারফর্ম করবে সে সুযোগ পাবে। আমরা হয়ত সঠিক সময়ে সুযোগটা দিব।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: শরিফুল, হৃদয়রা জাতীয় দলে খেললেও আকবর এখনো ঢুকতে পারেনি। আপনি তো তাকে কাছ থেকে দেখেছেন। এখন ভালো পারফর্মও করছেন। তাকে জাতীয় দলে দেখছেন কিনা
নাইম— আকবরের কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা ছিল। সেটা নিয়ে আমি ওর সাথে আলোচনা করতাম। কারণ আমারও খুব জানার আগ্রহ থাকে। আকবর বলতো, ‘ভাই আমি বুঝতে পারছি না কেন এমন হচ্ছে।’ আমি গ্রিপ বা হাত নিয়ে কিছু টিপস দিতাম। কক্সবাজারে একটা ম্যাচে ও ব্যাটিংয়ে নামার পর দেখলাম ওর ব্যাটিং পুরা চেঞ্জ। ওই ম্যাচে ও ৬০-৭০ করল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার কাল এক ব্যাটিং দেখলাম আর আজ আরেকরকম’ ও বলল, ‘ভাই হালকা কিছু চেঞ্জ করছি।’
ও টেকনিকে এখন অনেক উন্নতি করেছে। আগে ও শুধু লেগ সাইডে মারতো, এখন ও অফ সাইডেও অনেক উন্নতি করেছে। এনসিএল টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে আকবর আমাদের দলের একটা বিগ পার্ট ছিল। ও ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছে। ওকে ঘিরেই আমাদের গেম প্ল্যান থাকতো। ও সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বিসিএলেও খুব ভালো খেলল। আমি আশাবাদী ও যদি এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে তবে খুব ভালো হবে। কে কত আগে ঢুকল সেটার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমি কতটুকু দিতে পারলাম। লম্বা জার্নি থাকাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: সাকিব আল হাসানকে সবাই জাতীয় দলে দেখতে চায়। তাকে নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?
নাইম— সাকিব যদি দেশে আসে এবং ফিট থাকে তাহলে সে অবশ্যই দেশের জন্য খেলবে। এটা তো খুবই নরমাল বিষয়। এখন সাকিব দেশে কবে আসবে না আসবে এই বিষয়ে আমরা কেউ কিছু জানি না। সাকিবের সাথে আমরা খুবই ভালো রিলেশন। আমি চাই সাকিব দেশে আসুক, খেলুক। সাকিবের কাছ থেকে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যা পেয়েছে, এত বছর বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার, বিশ্বে এমন কেউ নাই। ওয়ান অ্যান্ড অনলি। আমি সবসময়ই চাইব সে দেশে আসুক, সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাক এবং আবারও দেশের জন্য খেলুক।
ক্রিকফ্রেঞ্জি: ২০২৭ বিশ্বকাপে তাকে দেখেন?
নাইম— যদি সমস্যাগুলো মিটে যায় তবে নির্বাচক হিসেবে অবশ্যই আমি ওকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দেখি। কারণ সাকিবের মানের একজন খেলোয়াড়, পরবর্তী সাকিব কবে আসবে এটা বলা কঠিন। সাকিব যদি অ্যাভেইলএবল হয় তবে বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক ভালো হবে।