জেতা ম্যাচ হেরে গেলো সাইফরা

ছবি:

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আজ নিউজিল্যান্ডেড় ক্রাইস্টচার্চে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিলো সাইফ-আফিফদের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ক্রিকেট দল। তবে এই ম্যাচে আফগানদের কাছে টাইগার যুবাদের হারতে হয়েছে ৫৬ রানের বড় ব্যবধানে।
এদিন শুরুতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়েড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। পরবর্তীতে হাসান মাহমুদ এবং রবিউল হকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৮ বল আগেই ২০৬ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান দল।
হাসান ৯ ওভার বোলিং করে ৪৬ রানে একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। অপরদিকে ৯.২ ওভারে ৫৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন রবিউল। এছাড়াও ২টি উইকেট পেয়েছেন টিপু সুলতান।
আফগানদের পক্ষে এদিন দারুণ ব্যাটিং করেছেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান আজমাতুল্লাহ ওমরজাই। বলা যায় দলের হয়ে ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। অন্যান্য ব্যাটসম্যানেরা যেখানে নিদারুণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছিলেন সেখানে ওমরজাই খেলেছেন ৬৬ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস।
যেখানে ছিলো ৫টি ছয় এবং সমান সংখ্যক চারের মার। এছাড়া ৪৪ রান এসেছে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান বাহির শাহর ব্যাট থেকে। আর ৩২ রান করেছেন ওপেনার ইবরাহিম জাদরান। ওমরজাইয়ের এই বীরোচিত ইনিংসের পরও অবশ্য খুব বেশি রান তুলতে পারেনি আফগানরা। গুঁটিয়ে গিয়েছে ২০৬ রানেই।

তবে এই রানও পার করতে ব্যর্থ হয়েছে সাইফ বাহিনী। ২০১৭ রানের মামুলি লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নাইম হাসানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আফগান কাপ্তান নবীন-উল-হকের বলে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।
অবশ্য এরপর পিনাক ঘোষ এবং অধিনায়ক সাইফ হাসানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটসম্যান ৭৭ রানের জুটি গড়েন। আর এই জুটি গড়ার পথে দারুণ একটি অর্ধশতক তুলে নেন পিনাক। তবে এরপর ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন তিনি।
দলীয় ৯২ রানের মাথায় সাতটি চারে ৬৭ বল খরচায় ঠিক ৫০ রান করে ১৯তম ওভারে কায়েস আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। এরপরই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের আত্মাহুতির মিছিল। মাত্র ৫৮ রানের ব্যবধানে বাকি ৮ উইকেট হারিয়ে বসে যুবারা।
অধিনায়ক সাইফ এক প্রান্ত আগলে ধরে থাকলেও সঙ্গী হিসেবে সেভাবে কাউকেই পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১২৫ রানের সময় তাঁকেও ফিরে যেতে হয়েছে ৪৩ রান করে।
সেসময় বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৩২ ওভারে ১২৫ রান। সেই অবস্থান থেকেও জয় সম্ভব ছিলো যদি কোনো বড় জুটি গড়তে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু আফগানদের বোলিং তোপে বড় জুটি তো দুরের কথা, দুই অঙ্কের ঘরেই কেউ পৌঁছতে পারেননি।ফলে মাত্র ১৫০ রানেই অলআউট হয়ে যেতে হয়েছে ক্ষুদে টাইগারদের। আর ৫৬ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়েছে আফগানরা।
আফগানিস্তানের পক্ষে সবথেকে সফল বোলার ছিলেন কাইস আহমেদ। ১০ ওভার বোলিং করে ২৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। দ্বিতীয় সেরা বোলার ছিলেন নাভিন উল হক। ৮ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনিও। এছাড়াও ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মুজিব জাদরান, ওয়াফাদার এবং জহির খান।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলঃ সাইফ হাসান (অধিনায়ক) আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মোহাম্মদ নাঈম, মোহাম্মদ রকিব, নাঈম হাসান, পিনাক ঘোষ, কাজী ওনিক, রবিউল হক, রনি হোসেন, শাকিল হোসেন, টিপু সুলতান, তৌহিদ হৃদয়।
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলঃ নবীন-উল-হক (অধিনায়ক), আজমাতুল্লাহ ওমরজাই, বাহের শাহ, দারভিস রসুলী, ইকরাম আলী খিল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মুজিব জাদরান, নিশার ওয়াহদাত, কায়েস আহমদ, রহমতুল্লাহ, তারিক স্ট্যানিকজাই, ওয়াফাদার, ওয়াকারুল্লাহ ইশাক, ইউসুফ জাজাই, জহির খান।