ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ জেতার অপূর্ণতা অবশ্য এখনো আছে স্মিথের। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ হওয়ায় শিরোপা ধরে রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজ জয় এসেছিল ২০০১ সালে। স্মিথ নিজেও ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ জয়ের স্বাদ পাননি। তাই ২০২৭ সালে সেই সুযোগ পাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও এখনই নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন না তিনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী অ্যাশেজ নিয়ে দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনিশ্চয়তার কথা জানান স্মিথ। তিনি বলেন, ‘আমি তখন সেখানে থাকব কি না, সেটাই জানি না। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই সিরিজ ধরে ধরে এগোচ্ছি। এই মুহূর্তে সেটি আমার জন্য এখনো অনেক দূরের বিষয়। ইংল্যান্ডে একটি অ্যাশেজ জিততে পারলে অবশ্যই ভালো লাগত, তবে সেটি শেষ পর্যন্ত হয় কি না, তা সময়ই বলবে।’
তবে টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পর কী করবেন, সে সিদ্ধান্তও এখনো নেননি স্মিথ। ১২৫ টেস্টে ৩৭ সেঞ্চুরিসহ ৯ হাজারের বেশি রান করা এই ব্যাটার ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়েও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে আমস্টারডাম ফ্লেমসের হয়ে খেলছেন তিনি। মূলত নিয়মিত টি-টোয়েন্টি খেলার পাশাপাশি তরুণ ও সহযোগী দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াও তার লক্ষ্য।
স্মিথের ক্যারিয়ারের বড় লক্ষ্য এখন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। ১২৮ বছর পর অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট, যেখানে পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে। তখন স্মিথের বয়স হবে ৩৯। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেই আসরে খেলার স্বপ্ন থেকেই নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেকে ধরে রাখতে চান তিনি।
স্মিথ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার বড় লক্ষ্য হলো অলিম্পিকে অংশ নেওয়া। যত বেশি সম্ভব টি-টোয়েন্টি খেলে যেতে চাই। এখানে এসে নতুন একটি বাজারে খেলা এবং স্থানীয় ও সহযোগী দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছি।’
এদিকে টেস্ট ক্রিকেটে স্মিথের সামনে এখনো ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে। অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ সাউথ আফ্রিকা সফর, যেখানে তিন টেস্টের সিরিজ খেলবে তারা। এরপর রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ভারত এবং ২০২৭ সালের অ্যাশেজ। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা এরই মধ্যে ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও ভাবছেন। তিন নম্বর নিয়ে মার্নাস লাবুশেনের জায়গা নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রয়োজনে স্মিথকে চার নম্বর থেকে তিন নম্বরে ওঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।