২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি এবং ২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রোহিত। এরপর চলতি গ্রীষ্মে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকেও তার বিদায়ের আলোচনা শুরু হয়। এমনকি গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ম্যাচকেই ভারতের জার্সিতে রোহিতের শেষ ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নির্বাচক কমিটির এক সদস্য সরাসরি রোহিতকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাকে নিয়ে আর এগোতে চায় না কমিটি। এমনকি লর্ডস ম্যাচের পরই তাকে অবসরের ঘোষণা দেয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচকদের এমন বার্তায় ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করেছিলেন ভারতের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পথেও ছিলেন রোহিত। কিন্তু লর্ডসেই বদলে যায় পরিস্থিতি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি। যদিও দল সেই ম্যাচে হেরে যায়, তার দুর্দান্ত ব্যাটিং আবারও রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
তবে ওই ইনিংসও ২০২৭ বিশ্বকাপের দলে রোহিতের জায়গা নিশ্চিত করছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়ালেও নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এখনো অনিশ্চিত রোহিত।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় লর্ডস ম্যাচের আগে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছিলেন, রোহিত এখনই কোথাও যাচ্ছেন না। বোর্ডের শীর্ষ কর্তার এই অবস্থান মেনে নিতে পারেনি অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিটি। এতে বোর্ডের নীতিনির্ধারক ও নির্বাচকদের মধ্যে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে।
এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার প্রত্যাশা থাকলেও আজকের বৈঠকেই তার ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে। আগারকারের জায়গায় ভিভিএস লক্ষণকে প্রধান নির্বাচক করার জোরালো গুঞ্জনও রয়েছে। ফলে রোহিতের ভবিষ্যতের পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেটের নির্বাচনী কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে আজকের বৈঠক।