২০২২ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন রুট। বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর আবারও দলের নেতৃত্বে ফিরেছেন তিনি। স্টোকসের বিদায়ের পেছনেও দলের নিয়ম ভাঙার ঘটনা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে প্রথম টেস্ট জয়ের পর নির্ধারিত সময়ের বাইরে রাতে বাইরে ছিলেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন। পরে তারা চেলসির একটি নাইটক্লাবে যান। সেখানে অ্যাটকিনসনের সঙ্গে এক সারাসেন্স একাডেমির রাগবি খেলোয়াড়ের ঝামেলাও হয়। এরপর দ্বিতীয় টেস্টে দুজনকেই দলের বাইরে রাখা হয়েছিল।
তবে ওই ঘটনার পর দলের মধ্যরাতের কারফিউ নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। অ্যাটকিনসন ইংল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি-কে জানিয়েছিলেন, প্রথম টেস্টের পর কারফিউ চালু থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন না। এরপরই নিয়মটি আরও স্পষ্টভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত বছর টেস্ট ক্রিকেটে বাজে সময় কাটিয়েছে ইংল্যান্ড। এরপরই এই কারফিউ চালু করা হয়েছিল। সেই সময় নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে একটি নাইটক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর ঘুষিতে আহত হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের টেস্ট সহ-অধিনায়ক ও সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। অ্যাশেজের আগে সাদা বলের সফরের শেষ ম্যাচের আগের রাতে ওই ঘটনা ঘটেছিল।
এবার রুট দায়িত্ব নিয়েই কারফিউ পুরোপুরি তুলে দিলেন। নতুন টেস্ট কোচ হিসেবে স্টিফেন ফ্লেমিং দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে বড় পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ। খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীল আচরণে আস্থা রাখছেন রুট। তার মতে, জাতীয় দলের হয়ে খেলা খেলোয়াড়দের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিণত হওয়া উচিত।
স্কাই স্পোর্টসের ক্রিকেট পডকাস্টে রুট বলেন, 'কোনো কারফিউ থাকবে না। সত্যি বলতে, আমি মনে করি না এটাকে বড় কোনো বিষয় বানানোর প্রয়োজন আছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কারফিউ নিয়ে আমার মত হলো, এগুলো কাজ করে না। আপনি যদি চান খেলোয়াড়েরা মাঠে দায়িত্বশীল হোক, তাহলে মাঠের বাইরেও তাদের পরিণত মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।'
দলের সংস্কৃতি ঠিক রাখার দায়িত্ব খেলোয়াড়দের নিজেদেরও নিতে হবে বলে মনে করেন রুট। তার মতে, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।
রুট বলেন, 'দল হিসেবে আমাদের বিষয়টি ভালোভাবে সামলাতে হবে এবং নিজেদেরও নিয়মের মধ্যে রাখতে হবে। আমি ও ফ্লেমিং বিভিন্নভাবে বিষয়টি দেখব। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই পরিণত মানুষ। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে কী করতে হয়, সেটা আপনারা জানেন। মাঠের বাইরে আপনাদের দায়িত্ব কী, সেটাও জানেন।'
এ প্রসঙ্গে রুট যোগ করেন, 'আমাদের পরিচিতি হওয়া উচিত আমরা কীভাবে ক্রিকেট খেলি এবং মাঠে কী করি, সেটার জন্য। সংবাদপত্রের শেষ পাতায় আমাদের ক্রিকেট নিয়ে খবর থাকা উচিত। তাই বিষয়টি নিয়ে আমার বার্তা খুব সহজ, পরিণত মানুষের মতো আচরণ করুন, নিজেদের এবং একে অন্যের খেয়াল রাখুন। এমন একটি ভালো সংস্কৃতি তৈরি করুন, যেখানে কখন জয় উদযাপন করতে হবে, কখন একটু পানীয় নিয়ে উদযাপন করা ঠিক আছে, সেটা আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন। আর মনে রাখবেন, আপনারা ইংল্যান্ডের হয়ে খেলছেন।'
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডও বুধবার এক বিবৃতিতে কারফিউ তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। শুধু টেস্ট দল নয়, ম্যাককালাম ও ব্রুকের অধীনে থাকা সাদা বলের দলগুলোর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম আর কার্যকর থাকবে না।
বিবৃতিতে ইসিবি বলেছে, 'আমাদের টেস্ট অধিনায়ক ও কোচ দলের মানদণ্ড ও সংস্কৃতি কীভাবে তৈরি করবেন, সেটি নিয়ে কাজ করছেন। এর অংশ হিসেবে কারফিউ আর থাকবে না। আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য একত্রিত হওয়ার সময় প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দলের প্রত্যাশা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হবে।'
গত মাসে ভারতের বিপক্ষে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে জয়ের পর ইংল্যান্ডের সাদা বলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামও দলের পানীয় সংক্রান্ত নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছিলেন। তার কিছুদিন আগেই জানা যায়, লাল বলের কোচের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে কারফিউ অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০১৭-১৮ অ্যাশেজের সময় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রস প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন নিয়ম চালু করেছিলেন। তখনও অধিনায়ক ছিলেন রুট। পার্থের একটি নাইটক্লাবের ঘটনায় জনি বেয়ারস্টোর বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে মাথা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠার পর ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে জানা যায়, অভিযোগটি সঠিক ছিল না।
সেই সময় ইংল্যান্ডের দলেও ছিল বেশ অস্থিরতা। ব্রিস্টলে মারামারির ঘটনায় জড়ানোর কারণে অ্যাশেজ সফরে ছিলেন না স্টোকস। পরের বছর গ্রীষ্মে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকেও তিনি অব্যাহতি পান।
এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে নতুন অধ্যায়ের শুরু করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। আগামী ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট।