এ পরিস্থিতিতে নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর, ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং এক্সিলেন্স সেন্টারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের চোট নিয়ন্ত্রণ, পুনর্বাসন এবং মাঠে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন অনেক ক্রিকেটারের সুস্থ হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন নির্বাচকরা।
বোর্ডের একটি সূত্র সংবাদ সংস্থাকে জানায়, ‘কোনো ক্রিকেটার খেলতে পারবে না- এ কথা বলা সহজ। কিন্তু তাকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর জন্য চিকিৎসকেরা যথেষ্ট কাজ করছেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সাই সুদর্শনকে নিয়ে বলা হচ্ছে, তিনি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যাট করছেন এবং দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন। কিন্তু সফরের ঠিক আগে তাকেও অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?’
বোর্ডের ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের নেতৃত্বেও শূন্যতা রয়েছে। নীতীন প্যাটেল দায়িত্ব ছাড়ার পর এখন ধনঞ্জয় কৌশিক অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, পুনর্বাসনের সময় নির্ধারণ এবং মাঠে ফেরার আগে সব শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কয়েকজন ক্রিকেটারের শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত ওজন থাকা সত্ত্বেও হার্শিত রানাকে কেন খেলার উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একইভাবে ইংল্যান্ড সফরের আগে এক ব্যাটারের ওজন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সক্ষমতা পরীক্ষায় ধরা না পড়ায় এক্সিলেন্স সেন্টারের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ওয়াশিংটন সুন্দরের বারবার চোট পাওয়া এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির বিশেষ অনুশীলনের পর চোটে পড়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার পেছনে পুনর্বাসন ও শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় দলের চিকিৎসক কমলেশ জৈনের ভূমিকাও এখন পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকলেও চোট নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রিকেটারদের দ্রুত মাঠে ফেরানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল মিলছে কি না, তা নিয়ে বোর্ডের ভেতরে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে তার দায়িত্ব ও কার্যক্রমও মূল্যায়নের মুখে পড়তে পারে।