ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পালনই সবচেয়ে রোমাঞ্চকর: ওয়াশিংটন

ইংল্যান্ড-ভারত সিরিজ
ওয়াশিংটন সুন্দর, ফাইল ফটো
ওয়াশিংটন সুন্দর, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে টানা ৬ টি-টোয়েন্টি হেরে বেশ বিপর্যস্ত ছিল ভারত। ওয়ানডে সিরিজে তাই চাপ নিয়েই খেলতে নেমেছিল তারা। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে সেই চাপ কিছুটা হলেও সরাতে পেরেছে শুভমান গিলের দল। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত এক হাফ সেঞ্চুরি করে নজর কেড়েছেন অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর। অধিনায়ক গিল রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফেরার পর পাঁচ নম্বরে নেমে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সুন্দর। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করলেও যেকোনো পজিশনেই ব্যাট করা উপভোগ করেন বলেও জানান সুন্দর। ভিন্ন ভিন্ন ব্যাটিং পজিশনে ব্যাট করার মাধ্যমে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাওয়াটাই একজন ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও মনে করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে পাঁচ নম্বরে নেমে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেলেন ওয়াশিংটন। অক্ষর প্যাটেলের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১০২ রানের জুটি গড়ে ভারতের ছয় উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে অধিনায়ক গিলের ৮০ রানের ইনিংস জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

ম্যাচ শেষে ওয়াশিংটন বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ভূমিকা পালন করি, এটিই সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয়। খুব বেশি ক্রিকেটার এমন সুযোগ পায় না। আমি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবসময় চেষ্টা করি দলের জয়ে অবদান রাখতে। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে পারাটা সত্যিই উপভোগ করি।’

নিজের ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কৃতিত্ব ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও গুজরাট টাইটান্সের প্রধান কোচ আশীষ নেহরাকে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

ওয়াশিংটন বলেন, ‘গৌতি ভাই (গৌতম গম্ভীর) সবসময় আমাকে বুঝিয়েছেন, ব্যাট হাতে আমি ঠিক কী করতে পারি। তিনি আমার খেলাটাও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছেন। একইভাবে গুজরাট টাইটান্সে আশীষ নেহরা আমাকে একজন মানুষ এবং ক্রিকেটার দুই দিক থেকেই নিজেকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিদিন নিজের উন্নতি করা, নিজের খেলাকে বোঝা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশি ম্যাচ খেললে এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা বাড়ে, শেখার সুযোগও তৈরি হয়। আমার দক্ষতার ওপর যারা সবসময় বিশ্বাস রেখেছেন এবং আমাকে নিজের সামর্থ্য বুঝতে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

দলে একাধিক অলরাউন্ডার থাকার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অলরাউন্ডার হতে পারাটা আমার জন্য আশীর্বাদ। যেকোনো দলই যত বেশি সম্ভব অলরাউন্ডার রাখতে চাইবে। এতে কন্ডিশন অনুযায়ী দল সাজানো সহজ হয় এবং দলে বৈচিত্র্য আসে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তখন কখনোই মনে হবে না যে বিকল্পের অভাব রয়েছে। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলি, যেখানে প্রতিটি কন্ডিশনই আলাদা। তাই দলে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প থাকা সবসময়ই বড় সুবিধা। আজকের দিনটাও আমাদের সবার জন্য ভালো গেছে।’

এজবাস্টনের উইকেটে অধিনায়ক শুভমান গিল ও অক্ষর প্যাটেলের ব্যাটিংয়েরও প্রশংসা করেন ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ‘উইকেটে কিছুটা সহায়তা ছিল। শুভমান দারুণ ব্যাটিং করেছে, আর শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে তার জুটিটাও ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। অক্ষর যেভাবে প্রয়োজনের সময়ে বাউন্ডারি মেরেছে, তাতে রান তাড়াটা অনেক সহজ মনে হয়েছে। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি এবং জিততে পেরে খুবই আনন্দিত।’

পেসার গুরনুর ব্রারের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশংসা করেন তিনি। ওয়াশিংটন বলেন, ‘গুরনুরের মধ্যে সবসময়ই লড়াকু মানসিকতা দেখা যায়। গুজরাট টাইটান্সে গত কয়েক বছর ধরে তাকে কাছ থেকে দেখেছি। ম্যাচ হোক বা অনুশীলন, সে সবসময় শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন মানসিকতার খেলোয়াড়রাই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হয়ে এগিয়ে আসে। আজ সে অসাধারণ বোলিং করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে আমাদের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।’

আরো পড়ুন: