নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্ট চলাকালেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন স্টোকস। ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক উইকেটটিও তুলে নেন তিনি। তবে শেষ ম্যাচটি সুখকর হয়নি তার জন্য। ইংল্যান্ড ১৬০ রানে হেরে যায়, আর সেই সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।
স্টোকসের বিদায়ের আগে কয়েক সপ্তাহ ছিল ঘটনাবহুল। লর্ডসে প্রথম টেস্টে দলকে জয় উপহার দিলেও লন্ডনের একটি নাইটক্লাব-সংক্রান্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি। পরে ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের শেষ টেস্টে ফিরে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ইনিংসে ওপেনিংয়েও নেমেছিলেন তিনি।
অবসরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের স্মৃতিচারণ করে স্টোকস লিখেছেন, '১৫ বছরটা ছিল অবিশ্বাস্য এক যাত্রা। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সর্বোচ্চ আনন্দ থেকে সবচেয়ে কঠিন সময়, সবকিছুরই মুখোমুখি হয়েছি। আমার সময় শেষ হয়েছে, আর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার ছাড়া অন্য কারও ছিল না। তবে এর আগে আমি শুধু বলতে চাই, বছরের পর বছর যারা আমাকে সমর্থন করেছেন প্রত্যেক ইংল্যান্ড সমর্থক এবং প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীকে আমি ভালোবাসি।'
স্টোকস আরো লিখেছেন, 'ইংল্যান্ডের হয়ে যাদের সঙ্গে মাঠে নেমেছি, তাদের প্রত্যেককেও আমি ভালোবাসি। আরও অনেক কিছু বলার আছে, তবে আশা করি বুঝতে পারছেন, গত ১৫ বছর আমি এই খেলাটা কতটা ভালোবেসে উপভোগ করেছি। এবার সমর্থক হয়ে দলকে সমর্থন করার অপেক্ষায় আছি। পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ, সমর্থক তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি।'
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের হয়ে ১২২টি টেস্ট, ১১৪টি ওয়ানডে ও ৪৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন স্টোকস। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার সংগ্রহ ১১ হাজারের বেশি রান ও ৩৫২ টি উইকেট। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় এবং অ্যাশেজে একাধিক স্মরণীয় পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের সাফল্যের নায়ক।