স্টোকসকে দীর্ঘদিন বেশ কাছ থেকে দেখেছেন বোথাম। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডারহামের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি এবং ২০১৭ সালে ব্রিস্টল নাইটক্লাবকাণ্ডে স্টোকস গ্রেপ্তার ও দীর্ঘ তদন্তের মুখে পড়লেও তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বোথাম। তবে এবার স্টোকসের কর্মকাণ্ডে হতাশ ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। তা্র দাবি, কারফিউ মানার দায়িত্ব অধিনায়ক হিসেবে স্টোকসেরই ছিল, সেই নিয়ম তিনিই ভঙ্গ করেছেন।
‘স্টিক টু ক্রিকেট’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে বথাম ইংল্যান্ড দলের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্টোকসের আচরণকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন।
বোথাম বলেন, 'কিছু মানুষ কখনোই শিক্ষা নেয় না। ব্যাপারটা এতটাই সহজ। ব্রিস্টলের ঘটনার সময় আমরা ক্লাব হিসেবে এবং আমি চেয়ারম্যান হিসেবে স্টোকসের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু লর্ডস টেস্টের পর যা ঘটেছে, সেটার কোনো যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাচ্ছি না।'
নাইটক্লাবে উপস্থিত দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি। বোথাম বলেন, 'আমার মাথায় আসে না নিরাপত্তা কর্মকর্তা সেখানে কী করছিলেন। যদি জানা থাকে যে মধ্যরাতের পর তাদের সেখানে থাকার কথা নয়, তাহলে অধিনায়ককে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব তার কেন হবে?'
এখানেই থেমে থাকেননি বোথাম। তিনি মনে করেন, এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে স্টোকসের ক্যারিয়ারে।
স্টোকসের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে বোথাম বলেন, 'আমার মনে হয় বিষয়টি কোথায় গড়াতে পারে আমি জানি। স্টোকস অধিনায়কত্ব হারালে আমি অবাক হব না। এমনকি সে ক্রিকেটও ছেড়ে দিতে পারে। এটি ছিল একেবারেই অপ্রয়োজনীয় একটি ঘটনা, যার জন্য সে ভবিষ্যতে অনুতপ্ত হবে।'
লর্ডসে প্রথম টেস্টে জয়ের পর কারফিউ ভঙ্গের ঘটনায় স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। যদিও তদন্ত শেষে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) জানিয়েছে, নাইটক্লাবের সহিংস ঘটনায় দুই ক্রিকেটারের কোনো দায় ছিল না। তবে চুক্তিভিত্তিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাদের লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিকে স্টোকসের অনুপস্থিতিতে সহ-অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের পরিবর্তে জো রুটকে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বোথাম।