আইপিএল ফাইনালের আগে আইসিসি বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। যদিও আগামী জুলাইয়ে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের জন্য গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার ফিরিয়ে আনার পেছনে অন্যতম কারণ হলো সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটের প্রতি দর্শকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ। একসময় সহযোগী দেশগুলোর ম্যাচের দর্শকসংখ্যা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ম্যাচের তুলনায় প্রায় আট গুণ কম ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ম্যাচ বাদ দিলে সেই ব্যবধান এখন কমে প্রায় দেড় গুণে নেমে এসেছে।
২০১৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার পদ্ধতি চালু ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ওই আসরে নেদারল্যান্ডস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং সেখান থেকেই ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য অ্যাসোসিয়েট দলগুলো নির্ধারিত হয়েছিল। যদিও করোনা মহামারির কারণে সেই বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৯ সালের পর থেকে অ্যাসোসিয়েট দলগুলোকে পাঁচটি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাঁচটি আঞ্চলিক বাছাই প্রতিযোগিতা থেকে আটটি দল জায়গা করে নেয়।
আমেরিকা অঞ্চল পেয়েছিল একটি কোটা, যেখান থেকে কানাডা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে। ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চল দুটি করে কোটা পায়। ইউরোপ থেকে নেদারল্যান্ডস ও ইতালি এবং আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া বিশ্বকাপের টিকিট অর্জন করে।
অন্যদিকে, এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের যৌথ বাছাইপর্ব থেকে তিনটি দল বিশ্বকাপে সুযোগ পায়। সেই পথ ধরে নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে।
গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার কোথায় এবং কবে আয়োজন করা হবে, তা প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত হবে। তবে এ আয়োজন বাস্তবায়নে কিছু জটিলতাও রয়েছে। কারণ ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য কয়েকটি আঞ্চলিক বাছাইপর্ব ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।