১৯৮৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক গ্রহণের অভিযোগ জড়িয়ে যায় শিবরামকৃষ্ণনের সাথে। এই অভিযোগের কারণে একটা সময় তার সামাজিক ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়ে যায়। ভারতীয় জাতীয় দলের খেলোয়াড় হবার পরেও একটা সময় বিয়ে করার জন্য পাত্রী খুঁজে পাচ্ছিলেন না বলেও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এই ধারাভাষ্যকার।
শিবরামকৃষ্ণন বলেন, ‘১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সে আমি সফরে ছিলাম। তখন কীভাবে আমাকে হোটেলে মদ দেয়া সম্ভব? আমি কখনোই মাদক নিইনি। একদিন পোস্টবক্স খুলে দেখি একটিও আবেদন নেই (বিয়ের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া প্রসঙ্গে)। তখন বুঝেছিলাম, কেউই তাদের মেয়েকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে চায় না।'
খেলোয়াড়ি জীবনে নানান সময় দলের ভেতর থেকেও বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন শিবরামকৃষ্ণন। এসব মন্তব্যের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অভিষেক সিরিজ চলাকালীন এসব আচরণের শিকার হয়ে ভারতের ড্রেসিংরুমের বদলে তিনি বেশি সময় কাটান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেসিংরুমে।
শিবরামকৃষ্ণন বলেন, 'আমার গায়ের কালো রঙয়ের কারণে মানুষ সবসময় আমাকে সবসময় কষ্ট দিয়ে কথা বলতো। আমি সবসময় এগুলো ভুলে যেতে চাইতাম। কিন্তু আমার ভেতরে এসব থেকেই যেত। এসব জিনিস আমাকে এমন পরিস্থিতে এনে দাঁড় করিয়েছিল যে খুব অল্প বয়সেই আমি আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভুগতাম।'
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করার সময়েও নিজের গায়ের রঙয়ের কারণে অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তিনি। ২৩ বছরের ধারাভাষ্য ক্যারিয়ারে গায়ের রঙয়ের কারণে কখনোই তাকে টস কিংবা পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ করেন শিবরামকৃষ্ণনের।
তিনি বলেন, 'আমি কখনোই টস কিংবা পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করিনি। আমি একবার এক প্রযোজককে জিজ্ঞেস করেছিলাম এর কারণ কী? সে বলেছিলো, 'আমাদের বস আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আপনাকে সেখানে না রাখতে'। তারা আমার সাথে এটা করতো কারণ আমি নাকি উপস্থাপনযোগ্য ছিলাম না।'
দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে বর্ণবাদের শিকার হয়ে একটা সময় বিষণ্ণতায় ডুবে গিয়েছিলেন শিবরামকৃষ্ণন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএল চলাকালীন শিবরামকৃষ্ণনকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছিলো ধারাভাষ্যে যুক্ত থাকায়। তখন সবকিছু মিলিয়ে এতটা বিষ্ণণ্ণতায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি যে নিজের চেহারা আয়নায় দেখতে চাইতেন না তিনি, এমনকি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করার কথাও ভেবেছিলেন।
শিবরামকৃষ্ণন বলেন, 'আমি এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে আয়নায় নিজের দিকে তাকাতেও চাইতাম না। মাঝে মাঝে মনে হতো আমি মারা যাচ্ছি। মাঝে মাঝে দুবাইয়ের রাস্তায় গাড়িতে দ্রুতগতিতে ভ্রমণের সময় আমি ভাবতাম গাড়ির দরজাটা খুলে লাফিয়ে পড়ি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম।'