২০০৮-০৯ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লিষ্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক হয় রিচার্ডসনের। বছর কয়েক পর গায়ে জড়ান জাতীয় দলের জার্সি। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় ডানহাতি পেসারের। বিগ ব্যাশের প্রতিটি আসরেই খেলেছেন এমন ক্রিকেটারদের একজন রিচার্ড। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের হয়ে ছয় মৌসুম খেলেছেন তিনি।
পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ মৌসুমে অ্যাডিলেড ছেড়ে মেলবোর্ন রেনেগেডসে যোগ দেন। ডানহাতি পেসার তাদের হয়ে খেলেছেন ৮ মৌসুম। এরপর সিডনি সিক্সার্সের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করেন রিচার্ডসন। কদিন আগে শেষ হওয়া বিগ ব্যাশে চোটের কারণে দুই ম্যাচের বেশি খেলতে পারেননি তিনি। চোটের সঙ্গে লড়াই করে পেরে উঠতে না পারায় পেশাদার ক্রিকেটই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
এ প্রসঙ্গে রিচার্ডসন বলেন, ‘বিগ ব্যাশ লিগ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি আমি। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর থেকে এখনও পর্যন্ত, আমার মনে হয় নিজের প্রতিটি ফোটা নিংড়ে দিয়েছি আমি এবং এমন উপভোগ্য অধ্যায়ের শেষ করার উপযুক্ত সময় মনে হচ্ছে এখনই।’
‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এবং অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট বিশ্বের নানা জায়গায় ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলির হয়ে খেলতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান। ডারউইনে ছেলেবেলা বেড়ে ওঠার সময় ক্রিকেট নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছি, সেখান থেকে কোনো সুযোগই হালকা করে নেইনি আমি এবং আশা করি, আমাকে যারা দেখেছেন, সবাই তা অনুভব করেছেন।’
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৫ ওয়ানডে এবং ৩৬ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন রিচার্ডসন। ওয়ানডেতে ৩৯ এবং টি-টোয়েন্টিতে ডানহাতি পেসারের শিকার ৪৫ উইকেট। জাতীয় দলের হয়ে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছেন তিনি। জাতীয় দলের বাইরে বিগ ব্যাশে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১১৮ ম্যাচে ১৪৫ উইকেট নিয়েছেন। অবসর নেয়ার সময় বিগ ব্যাশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় পাঁচে আছেন রিচার্ডসন।
অস্ট্রেলিয়ার বাইরে আইপিএলেও খেলেছেন তিনি। ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলা রিচার্ডসন পরবর্তীতে রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। যদিও তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১৫ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়েছেন। এসবের বাইরে আইএল টি-টোয়েন্টি, দ্য হান্ড্রেড ও ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্টেও খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই পেসার।