ভারতের অভিধান থেকে ‘ওয়ার্কলোড’ শব্দটা মুছে ফেলা উচিত: গাভাস্কার

ছবি: সুনীল গাভাস্কার ও মোহাম্মদ সিরাজ

সিরিজের সবগুলো ম্যাচ খেলা দুই পেসারের একজন সিরাজ। অন্যজন ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস। ফলে বোঝাই যাচ্ছে সিরিজে কত বড় ধকল গেছে সিরাজের ওপর দিয়ে। অন্যদিকে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে তারকা পেসার জসপ্রিত বুমরাহকে ৩ ম্যাচের বেশি খেলাতে পারেনি ভারত।
আরেকটি সেঞ্চুরিতে ব্র্যাডম্যান-কোহলি-স্মিথকে ছাড়িয়ে গেলেন গিল
২৭ জুলাই ২৫
ভারতের হারা দুই ম্যাচেই ছিলেন বুমরাহ। তিনি বল হাতে কোনো পার্থক্যও গড়ে দিতে পারেননি। অন্যদিকে টানা চাপ সামলে প্রতি ম্যাচেই ভারতের হয়ে পারফর্ম করেছেন সিরাজ। ভারতের সাবেক ওপেনার সুনীল গাভাস্কার মনে করেন 'ওয়ার্কলোডের' ব্যাপারটিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন এই ভারতীয় পেসার।
এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে গাভাস্কার বলেন, 'সব সময় বলা হয় বোলাররাই ম্যাচ জেতায়, কিন্তু সত্যিটা হলো আপনাকে রানও করতে হবে। কারণ ভারত রান করতে পারেনি, সেই জন্যই তারা দুটি ম্যাচ হেরেছে। তবে হ্যাঁ, আমি মনে করি সিরাজ তার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, এবং ওয়ার্কলোডের ব্যাপারটা সে চিরতরে মিথ প্রমাণ করেছে।'

ভারতের ক্রিকেট অভিধান থেকে 'ওয়ার্কলোড' শব্দটি মুছে ফেলারও আহ্বান জানিয়েছেন গাভাস্কার। এই সাবেক ক্রিকেটারের ধারণা 'ওয়ার্কলোড' পুরোটাই মানসিক ব্যাপার। ক্রিকেটাররা চাইলেই এই বিষয়টিকে মিথ হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রেও সিরাজের উদাহরণ টেনেছেন গাভাস্কার।
দায়িত্ব আমাকে আনন্দ দেয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়: সিরাজ
২৬ আগস্ট ২৫
তিনি বলেন, 'আমি বহুদিন ধরে বলছি—ভারতীয় ক্রিকেটের অভিধান থেকে ‘ওয়ার্কলোড’ শব্দটা মুছে ফেলা উচিত। সিরাজ পাঁচটি টেস্টে একটানা ছয়-সাত-আট ওভারের স্পেল করে গেছে কারণ অধিনায়ক সেটা চেয়েছে এবং দেশ তার কাছ থেকে সেটাই প্রত্যাশা করেছে। আমাদের এটা মাথায় রাখা উচিত—ওয়ার্কলোড আসলে মানসিক ব্যাপার, ততটা শারীরিক নয়।'
ওয়ার্কলোডের কথা ভাবতে থাকলে ভবিষ্যতে সেরা ক্রিকেটারদের মাঠেই পাওয়া যাবে না বলে দাবি গাভাস্কারের। তিনি এক্ষেত্রে উদাহরণ টেনেছেন সীমান্তের সৈনিকদের। দেশের হয়ে খেলতে গেলে গা ব্যথা-মাথা ব্যথা ভুলে যেতে হবে সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার।
'যদি আপনি ওয়ার্কলোড নিয়ে যারা কথা বলে তাদের কথায় বিশ্বাস করতে থাকেন, তাহলে আপনার সেরা খেলোয়াড়রা কখনোই মাঠে থাকবে না। আপনাকে তাদের এমন মানসিকতায় আনতে হবে যে, ‘এই যে শুনো, তুমি তোমার দেশের হয়ে খেলছো, এবং দেশের হয়ে খেলতে গেলে গা ব্যথা-মাথা ব্যথা ভুলে যেতে হবে।’ এটা তো একদম সীমান্তে থাকা সৈনিকদের মতো।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আপনি কি ভাবেন, জওয়ানরা ঠাণ্ডা নিয়ে অভিযোগ করে? না, তারা জানে দেশের জন্য জীবন দিতে হবে। খেলোয়াড়দেরও দেশের জন্য তাদের সেরাটা দিতে হবে। ব্যথা নিয়ে চিন্তা না করে খেলতে হবে। রিশভ পন্ত আমাদের কী দেখিয়েছে? ফ্র্যাকচার নিয়েও ব্যাট করতে নেমেছে। এমন মানসিকতাই দলের কাছে আমরা প্রত্যাশা করি।'