যুবরাজের মতে, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আইপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাওয়ার সময় তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের খেলা নিয়ে অনেক দ্বিধা ও বিভ্রান্তির মধ্যে থাকেন। সেই জায়গায় শুধু কারিগরি পরামর্শ নয়, একজন ক্রিকেটারের মানসিক অবস্থাও বোঝা জরুরি। নিজের ক্যারিয়ারে এমন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তরুণদের সঙ্গে একান্তে কাজ করার এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুবরাজ সিং বলেন, 'আমার সন্তানরা যখন বড় হচ্ছিল, তখন আমি কিছুটা সময় বিরতি নিয়েছিলাম। যে সময় পেয়েছি, সেটা আমার রাজ্যের খেলোয়াড়দের পেছনে দিয়েছি। আমি তরুণদের সঙ্গে একান্তে কাজ করতে পছন্দ করি।'
এ প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, 'ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আইপিএল বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাওয়ার সময় একজন খেলোয়াড়ের নিজের খেলা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি থাকে। আমিও এমন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলে তারা মানসিকভাবে কী ভাবছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করি। আমি মনে করি, শুধু কেন ব্যর্থ হচ্ছে বা কী করতে হবে, এগুলো বলার চেয়ে একজন খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থাটা বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে অবশ্য আগ্রহ দেখাননি যুবরাজ। বরং একান্তে তরুণদের নিয়ে কাজ করাকেই তিনি বেশি উপভোগ করেন। তার মতে, খেলোয়াড়ের দুর্বলতা শুধরে দেওয়ার পাশাপাশি তার চিন্তাভাবনা ও মানসিক অবস্থার জায়গাটিও বুঝতে হয়। এ কারণেই ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন তিনি।
তরুণদের নিয়ে কাজের পাশাপাশি এখন কানাডায় ক্রিকেটের বিস্তারে যুক্ত হয়েছেন যুবরাজ। চলতি মাসের শেষ দিকে ভ্যাঙ্কুভারে শুরু হতে যাওয়া ছয় দলের ২৪ ম্যাচের টি-টেন টুর্নামেন্ট কানাডা সুপার সিক্সটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর তিনি। উত্তর আমেরিকার দর্শকদের কাছে ক্রিকেটকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। বাস্কেটবল, আইস হকি ও আমেরিকান ফুটবলের মতো দ্রুতগতির খেলাগুলোর জনপ্রিয়তা মাথায় রেখে সংক্ষিপ্ত ও গতিময় ক্রিকেট উপহার দিতে চান আয়োজকেরা।
কানাডা সুপার সিক্সটির দ্বিতীয় আসর সামনে রেখে যুবরাজের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ভারতের সাবেক পেসার জহির খানও। ভ্যাঙ্কুভার অ্যাঙ্করসের পুরুষ ও নারী দলের মালিকানা গ্রুপে যোগ দিয়েছেন জহির। টুর্নামেন্টে ক্রিকেটের পাশাপাশি সংগীত ও অন্যান্য বিনোদনমূলক আয়োজনও থাকছে। দিনে একাধিক ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য খেলাটিকে আরও সংক্ষিপ্ত ও উপভোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কানাডা সুপার সিক্সটির লক্ষ্য নিয়ে যুবরাজ বলেন, 'কানাডা ও ভ্যাঙ্কুভেন খেলাধুলার জন্য দারুণ জায়গা। আমরা ক্রিকেটকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চাইছি, আর সেটার জন্য টি-টেন ভালো একটি ফরম্যাট। আমেরিকা ও কানাডার জনপ্রিয় খেলাগুলো দ্রুতগতির এবং তুলনামূলক কম সময়ে শেষ হয়। তাই আমরা ক্রিকেটকেও ছোট, দ্রুত ও আরও গতিশীল করে তুলতে চাই। মানুষ কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও যেন দেড় ঘণ্টার একটি ম্যাচ উপভোগ করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।'
কানাডা সুপার সিক্সটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী যুবরাজ। তবে লিগ পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আইসিসির অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য থাকলেও তার আগে লিগটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে ক্রিকেটের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার।