পিঠের অস্ত্রোপাচারের পর মাঠে ফিরে অবশ্য নিজের চেনা ছন্দে ছিলেন না রশিদ। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই লেগ স্পিনার যেন হারিয়েই যাচ্ছিলেন একটা সময়। আফগানিস্তানের হয়ে ছন্দহীন বোলিংয়ের পাশাপাশি গত আইপিএলেও হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিলো গুজরাট টাইটান্সের এই স্পিনারের। গত আসরে ১৫ ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন মাত্র ৯ উইকেট। এরপর থেকে সেই খারাপ সময় কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পেতে থাকেন রশিদ।
খারাপ সময় থেকে নিজের ফিরে আসার গল্প বলতে গিয়ে রশিদ বলেন, 'যখন আমার অস্ত্রোপচার হয়েছিল, তখন মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আমি মাঠে ফিরে এসেছিলাম। এটা আমি খুব তাড়াহুড়ো করে করেছিলাম। এখন মনে হয়, এত দ্রুত মাঠে ফেরাটা ছিল আমার বড় ভুল। কিন্তু আফগানিস্তানের হয়ে খেলতে আমাকে ফিরতেই হয়েছিল এবং সেই ম্যাচগুলো খেলতে হয়েছিল।'
এ প্রসঙ্গে রশিদ আরও বলেন, 'আমার মনে হয় গত বছর আইপিএল শেষ হওয়ার পর আমি পুরো দুই-তিন মাস বিশ্রামে ছিলাম। সেই সময়ে আমি ফিটনেস নিয়ে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আমার পিঠের যত্ন নিয়েছি, যেন আবার ফিরতে পারি।আমার মনে হয় ক্রিজে যাওয়ার সময় যে ছন্দটা থাকে, সেটা আমি মিস করছিলাম। এরপর আমি মাঝখানে ভালো সময় কাটিয়েছি, দ্য হান্ড্রেডেও ভালো সময় কাটিয়েছি, তারপর সেখান থেকেই এগিয়ে গেছি।'
গুজরাটের হয়ে এবারের মৌসুমে দারুণ ছন্দে আছেন রশিদ। এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচেই শিকার করেছেন ১৫ উইকেট। সবশেষ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। বৈভব সূর্যবংশী ও ধ্রুব জুরেলের ঝড়ে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল রাজস্থান। সেখান থেকে বল হাতে নিয়ে একে একে চার উইকেট শিকার করে দলকে ম্যাচে ফেরান রশিদ। ৩৩ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন এই স্পিনার।
ম্যাচসেরা হবার পর রশিদ বলেন, 'প্রথম বলটা করার মুহূর্তেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে উইকেটে আমার জন্য কিছু আছে। তবে ব্যাপারটা ছিল গতি পরিবর্তন করে বোলিং করা নিশ্চিত করা। আমি চেষ্টা করছিলাম গতির ভিন্নতা আনতে, ধারাবাহিকভাবে ঠিক জায়গায় বল ফেলতে এবং স্টাম্প থেকে সরে না যেতে।'
এ প্রসঙ্গে রশিদ আরও যোগ করেন,'আমার মনে হয় আমি যদি স্টাম্প ছেড়ে বল করি, তাহলে ব্যাটসম্যানের জন্য সিঙ্গেল নেওয়া বা বাউন্ডারি মারা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, আমি শুধু নির্দিষ্ট লেংথে বল করতে চাইনি, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল লাইন,আর সেটা যেন তিন স্টাম্পের ওপরই থাকে।'